আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে বার্ষিক আন্তর্জাতিক কর্মসূচি ‘আল কুদস দিবস’ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত মিছিলে ইরানের রাজধানী তেহরানে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হয়েছেন। সেই মিছিলে মিছিলের মধ্যে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। খবর আল-জাজিরার।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) আল কুদস দিবস উপলক্ষে ইরানজুড়ে বিশাল জনসমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, রাজধানী তেহরান ছাড়াও খোররামাবাদ, ইসফাহান, গোলেস্তান, ইয়াজদ, মাশহাদ এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জাহেদান শহরে বিপুল মানুষ পতাকা হাতে মিছিলে অংশ নেন।
মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এবং তার নিহত বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি দেখা যায়। এর মধ্যেই বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে রাজধানী তেহরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, আজ দুপুরে তেহরানের একটি চত্বরে বড় একটি বিস্ফোরণ ঘটে, যেখানে প্রতিবাদকারীরা বার্ষিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে জমায়েত হয়েছিল। তবে বিস্ফোরণের কারণ এখনও জানা যায়নি।
প্রতিবেদন মতে, বিস্ফোরণের আগে ইসরায়েল হামলার লক্ষ্যে ইরানি জনগণকে ওই এলাকা খালি করতে বলেছিল।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানায়, শত্রু বিমান হামলায় একজন নারী ছিন্নভিন্ন হওয়া ধাতুর টুকরোতে মারা গেছেন। তবে অন্যান্য কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে আল জাজিরা আরবি জানিয়েছে, তেহরানে বিক্ষোভকারীদের সমাবেশস্থলের কাছাকাছি এলাকায় একটি বিমান হামলা হয়েছে। তবে হামলাটি ঠিক কোথায় হয়েছে বা এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না তা স্পষ্ট নয়।
আল কুদস দিবস মূলত ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন এবং ইসরাইলের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে প্রতি বছর রমজান মাসের শেষ শুক্রবার পালিত হয়। ১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি এ দিবস ঘোষণার মাধ্যমে এর সূচনা করেন। এরপর থেকে প্রতি বছর ইরান সরকার আল-কুদস দিবসে বিভিন্ন কর্মসূচি ও সমাবেশ আয়োজন করে আসছে। জেরুজালেম শহরের আরবি নাম ‘আল-কুদস’, আর সেই নাম থেকেই দিবসটির নামকরণ করা হয়েছে।
