গত রাত ১০টা থেকে লাইনে, তেল মিলতে পারে আজ বিকেল ৫টার পর!
প্রাইভেটকার নিয়ে গতকাল রোববার রাত ১০টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন চালক মুহিবুল ইসলাম। কিন্তু এখনো মেলেনি কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি।
পাম্পের বিক্রয়কর্মীরা জানিয়েছেন, তেল মিলতে পারে বিকেল ৫টার পর। তাই বাধ্য হয়ে এখন পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়েই অপেক্ষা করছেন তিনি৷
শুধু মুহিবুলই নয় তেলের জন্য রাজধানীর এয়ারপোর্টে রোডের ডিএল ফিলিং স্টেশনের সামনে গাড়ি নিয়ে রাত কাটিয়েছেন শত-শত চালক৷
সোমবার (২০ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা গেছে, স্টেশন থেকে শুরু হয়ে লাইনটি জসিমউদ্দীন রোড পর্যন্ত গিয়ে আবার আশপাশের সেক্টরের ভেতর ঢুকে পড়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষায় থাকা এসব গাড়ির মধ্যে প্রাইভেটকার, প্রাডো ও জিপের সংখ্যাই বেশি।
চালক জানান, তারা গতকাল রাত ১০টার আগেপরের সময় থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। তবে এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও এখনো তেল মেলেনি।এমন অবস্থায় পাম্পের আশপাশে ছায়াযুক্ত জায়গাগুলোতে কেউ গাড়ির ভেতরে, কেউ বাইরে সময় কাটাচ্ছেন। অনেককে লুঙ্গি পরে হেঁটে বেড়াতে দেখা গেছে।
আবার এই দীর্ঘ লাইনের সুযোগে পাম্পসংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে ভাসমান দোকান। কলা, রুটি, পানি, মাঠা, চা থেকে শুরু করে পান-সিগারেট— সবকিছু নিয়েই বসেছেন ক্ষুদ্র বিক্রেতারা।
সায়েম নামের অপেক্ষমাণ এক চালক বলেন, রাত থেকে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু এখনও কোনো নিশ্চয়তা নেই কবে তেল পাব। কাজকর্ম সব বন্ধ হয়ে গেছে।
রুবেল হোসেন নামের আরেকজন বলেন, এভাবে যদি চলতে থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের চলাচলই কঠিন হয়ে যাবে।
এদিকে পাম্পের কর্মীরা জানিয়েছেন, গতকাল রাত ১০টার পর থেকেই স্টেশনে তেল নেই। তারা বলেন, বিকেল ৪টার পর নতুন চালান আসতে পারে। সাধারণত একটি গাড়িতে ৮ থেকে ৯ হাজার লিটার অকটেন ও ডিজেল আসে, যা এত বিপুল চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল।
অন্যদিকে, এরইমধ্যে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। সংস্থাটি জানায়, চাহিদা বিবেচনায় অকটেন ২০ শতাংশ এবং পেট্রোল ও ডিজেল ১০ শতাংশ বেশি সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে এর মধ্যেই গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। এক প্রজ্ঞাপনে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের মূল্য পরিবর্তন করে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রয়মূল্য প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
