স্পোর্টস ডেস্কঃ পাকিস্তানের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে সিরিজ জিতে স্বস্তিতে রয়েছে বাংলাদেশ দল। এই সাফল্যে ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়েও এক ধাপ উন্নতি হয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজদের। আগে দশে থাকা বাংলাদেশ এখন উঠে এসেছে নবম স্থানে। ঈদের ছুটির পরও এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকতে পারে, কারণ আগামী মাসে বাংলাদেশ সফরে আসা নিউজিল্যান্ড দল তাদের কয়েকজন সেরা তারকাকে পাচ্ছে না।
চার নম্বরে থাকা পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের ফলে ৩ রেটিং পয়েন্ট অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পেছনে ফেলে নবম স্থানে উঠেছে টাইগাররা। আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত এই অবস্থান ধরে রাখতে পারলে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ নিশ্চিত হবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। বর্তমানে আইসিসির ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নিউজিল্যান্ড। তাদের বিপক্ষে সিরিজ জিততে পারলে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্টে আরও বড় উন্নতির সুযোগ থাকবে।
আগামী ১৩ এপ্রিল দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসবে নিউজিল্যান্ড দল। ১৭, ২০ ও ২৩ এপ্রিল মিরপুরে অনুষ্ঠিত হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এরপর ২৭ ও ২৯ এপ্রিল এবং ২ মে হবে তিন ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজ। তবে র্যাঙ্কিংয়ের হিসাব বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য ওয়ানডে সিরিজটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
পাকিস্তানকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ ঘরের মাঠে কিউইদের বিপক্ষে কিছুটা এগিয়েই মাঠে নামবে। কারণ সিরিজটি অনুষ্ঠিত হবে আইপিএল ও পিএসএলের সময়সূচির সঙ্গে মিল রেখে। এই দুই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের কারণে নিউজিল্যান্ড তাদের প্রথম সারির প্রায় দশজন ক্রিকেটারকে পাচ্ছে না। র্যাঙ্কিংয়ে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকায় এই সিরিজ হারলেও নিউজিল্যান্ডের তেমন বড় ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তাই ব্ল্যাকক্যাপসরা সাধারণত এমন দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ক্রিকেটারদের বাধ্য করে না; বরং ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের অনাপত্তিপত্র দিয়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেয়।
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে তাই দেখা যাবে না আইপিএলে থাকা অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার, রাচিন রবীন্দ্র, গ্লেন ফিলিপস, টিম সাইফার্ট, ফিন অ্যালেন, কাইল জেমিসন, জেকব ডাফি ও লকি ফার্গুসনকে। এছাড়া পিএসএলে ব্যস্ত থাকায় থাকছেন না মার্ক চ্যাপম্যান ও ড্যারিল মিচেলও। ফলে অনেকটা তরুণদের নিয়ে গড়া দ্বিতীয় সারির দলই বাংলাদেশে পাঠাবে কিউইরা। এমনকি দলের দুই কোচও পিএসএলে যুক্ত থাকায় বাংলাদেশে আসবেন না।
বাংলাদেশ অবশ্য সেরা দলটাই খেলাবে। বিশ্বকাপ সরাসরি নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ থাকায় কোন পরীক্ষা নিরিক্ষার মধ্য দিয়ে যাওয়ার ভাবনা নেই বলে জানান মিরাজ, ‘আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে, পয়েন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকটি পয়েন্ট আমাদের জন্য অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের মাথায় রাখতে হবে যে, ২০২৭ বিশ্বকাপে আমাদের কোয়ালিফাই করতে হবে। এজন্য প্রত্যেকটা সিরিজ, প্রত্যেকটা ম্যাচ আমাদের জন্য অনেক জরুরি। আমরা ওভাবেই চিন্তা করব যে, কীভাবে আমরা সিরিজ জিততে পারি, ম্যাচ জিততে পারি।
