বিশৃঙ্খলা শাকিবের ‘প্রিন্স’ প্রদর্শনে, হল ভা’ঙচুর ভক্তদের

বিনোদন ডেস্কঃ ঈদে মুক্তি পাওয়া সুপারস্টার শাকিব খানের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ প্রদর্শনের শুরুতেই দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা। প্রযুক্তিগত জটিলতা, লাইসেন্স সংকট এবং সময়মতো ডিসিপি ফাইল সরবরাহ না হওয়ায় অর্ধশতাধিক প্রেক্ষাগৃহে শো বাতিল হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ দর্শকের ভাঙচুর, টিকিট ফেরত এবং বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন হল মালিকরা।

প্রদর্শক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল জানিয়েছেন, নতুন সার্ভার সিস্টেমের জটিলতা, লাইসেন্স না পৌঁছানো এবং অন্যান্য কারিগরি সমস্যার কারণে দেশের অন্তত অর্ধশতাধিক হলে সকালের শো বাতিল করতে হয়েছে।

হল সংশ্লিষ্টরা জানান, সিনেমাটির ডিজিটাল কপি (ডিসিপি) নির্ধারিত সময়ের পরে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সরবরাহ করা হয়। নতুন সার্ভার প্রযুক্তির সঙ্গে অপরিচিত থাকায় অনেক হল অপারেটর সময়মতো কনটেন্ট লোড ও প্রদর্শনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারেননি।

যেসব হলে কপি পৌঁছেছে, সেখানেও লাইসেন্স জটিলতা (কেডিএম না পাওয়া) এবং সাউন্ড সমস্যার মতো ত্রুটি দেখা গেছে। ফলে দর্শক হলে প্রবেশ করার পরও অনেক জায়গায় সিনেমা চালানো সম্ভব হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ দর্শকদের একটি অংশ প্রেক্ষাগৃহে ভাঙচুর চালায়।

বগুড়ার মধুবন সিনেপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রোকনুজ্জামান ইউনূস জানান, কেডিএম লাইসেন্স না পাওয়ায় দুপুর ১২টার শো চালানো যায়নি। তার দাবি, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ প্রেক্ষাগৃহ একই সমস্যার মুখে পড়েছে।

একই চিত্র দেখা গেছে সৈয়দপুরের তামান্না সিনেমা হলে। অপারেটর আব্দুর রহমান বলেন, “সিনেমা থাকলেও সাউন্ড না থাকায় দর্শক ক্ষুব্ধ হয়ে ভাঙচুর করেছে। অগ্রিম বিক্রি হওয়া সব টিকিটের টাকা ফেরত দিতে হয়েছে।”

মাদারীপুরের টেকেরহাটের সোনালী সিনেমা হলের মালিক রাহুল খান জানান, কয়েক লাখ টাকা বিনিয়োগ করেও দুপুর পর্যন্ত সার্ভারে সিনেমা লোড করতে পারেননি। এতে শুধু টিকিট ফেরতই নয়, ভাঙচুরেও ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন তিনি।

শুধু সিঙ্গেল স্ক্রিন নয়, দেশের সবচেয়ে বড় মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্সও বিকেল ৩টা পর্যন্ত সিনেমাটির কোনো ডিসিপি ফাইল পায়নি। প্রতিষ্ঠানটির মিডিয়া ও মার্কেটিং বিভাগের এজিএম মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, নির্ধারিত সময়ে ফাইল না পাওয়ায় ‘প্রিন্স’-এর কোনো শো চালানো সম্ভব হয়নি, ফলে বিকল্প সিনেমা প্রদর্শন করতে হয়েছে।

এই পরিস্থিতির জন্য প্রযোজনা ও পরিবেশনা সংশ্লিষ্টদের দায়ী করে হল মালিকরা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে তড়িঘড়ি করে সিনেমা মুক্তি দেওয়ার প্রবণতার ফলেই এ ধরনের বিপর্যয় ঘটছে।

তবে এ বিষয়ে সিনেমাটির পরিবেশক অনন্য মামুন এবং প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *