মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলিতে একই পরিবারের ১৩ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশু ও নারীও রয়েছেন।
সর্বশেষ সোমবার (৯ মার্চ) এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তাছাড়া তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে রোববার রাত ১০টার দিকে উপজেলার বাঘরা ইউনিয়নের রুদ্রপাড়া এলাকায় একই পরিবারের ১৩ জন গুলিবিদ্ধসহ ১৪ জন আহত হন।
আহতরা হলেন, খোরশেদ খান (৬০), মোসাম্মৎ কাজল বরগম (৩৫), জয়তুন বেগম (৬০), ফাহিমা বেগম (৩০), ইভা আক্তার (১৬), নুপুর বেগম (২৪), বন্যা আক্তার (২৭), মোহাম্মদ আয়ান (৫), মোহাম্মদ দোলন (১২), মো. মুস্তাকিম (৭), মোহাম্মদ ইদ্রিস খান (৫৫), মো. আল-আমিন খান (৩), মিনু আক্তার (৫৫)। এরা সবাই একে অপরের আত্মীয়।
পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায় ,রোববার রাত ১০টার দিকে রুদ্রপাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মান্নান খান, তার চাচা হারুন খান ও তার পক্ষের লোকজনের সঙ্গে মিজানুর রহমানের বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন বিকেলে কাদিরের দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে মান্নান খানের লোকজন মিজানুর রহমানকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনি বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
সর্বশেষ সেদিন রাতে তারাবির নামাজের পর মান্নান খান, হারুন খান ও আমিন খানসহ ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মিজানুর রহমানের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুর চালালে নারী, শিশুসহ অন্তত ১৪ জন আহত হন। খবর পেয়ে র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। সময় একটি বিদেশি পিস্তল ও একনলা বন্দুক, ২১ রাউন্ড কার্তুজ, ৬১ রাউন্ড গুলি, ৯টি গুলির খোসা ও ১টি ওয়াকিটকিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তারা হলেন- মান্নান খান (৬৫), হারুন খান (৮০) ও মহসিন খান (২৯)। গ্রেপ্তারদের সোমবার আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ আহতদের প্রথমে স্থানীয় শ্রীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শংকর কুমার পাল জানান, রোববার রাত ১২টার পর নারী–শিশুসহ ১৪ জন চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে ১৩ জনের শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তাছাড়া সোমবার সকালে এই ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষে বন্যা আক্তার বাদী হয়ে ১১ জনের বিরুদ্ধে শ্রীনগর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
শ্রীনগর থানার ওসি মো. জুয়েল মিঞা বলেন, এই ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। যৌথ অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের থেকে হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। মামলা বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
