হিরোজ অব এশিয়া–ভলিউম ’-এর কলকাতায় প্রকাশ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ HRCBM

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ অখ্যাত স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ঐতিহ্য সংরক্ষণে ভারত-বাংলাদেশ সহযোগিতার অঙ্গীকার
কলকাতা, ২০ আগস্ট ২০২৬: নোভার্সিটি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘হিরোজ অব এশিয়া–ভলিউম I’ গ্রন্থের সফল প্রকাশনা অনুষ্ঠিত হয় কলকাতার বউবাজারস্থিত ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন হলে। অনুষ্ঠানে ভারত ও বাংলাদেশ থেকে আগত বিশিষ্ট অতিথি, গবেষক, সহযোগী লেখক, স্বাধীনতা সংগ্রামী পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

নোভার্সিটি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ড. শুভ্র চক্রবর্তী-র ভাবনা ও নির্দেশনায় নির্মিত এই গ্রন্থের মূল উদ্দেশ্য হল অখ্যাত ও স্বল্পপরিচিত স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জীবন, সংগ্রাম, ত্যাগ ও আত্মবলিদানকে গবেষণাভিত্তিক নথির মাধ্যমে সংরক্ষণ করা এবং তাঁদের অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা।

গ্রন্থটিতে বহু বিপ্লবী ও স্বাধীনতা সংগ্রামীর জীবন ও অবদান লিপিবদ্ধ হয়েছে। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন চাপেকর ভ্রাতৃদ্বয়, বসন্ত কুমার বিশ্বাস, লেফটেন্যান্ট সুনীল কুমার ব্যানার্জি, ক্রান্তিবীর হৃদয় রঞ্জন চক্রবর্তী, সর্দার বলবন্ত সিং পরদেশী, কেদারেশ্বর চৌধুরী, বালি চরণ দাস, খড়্গবল্লভ দাস, পরীক্ষিত মুখোপাধ্যায়, রফিজউদ্দিন আহমেদ এবং পুরেন্দ্র নারায়ণ নাথ।

অনুষ্ঠানে শ্রী সায়ন্তন বসু এবং শ্রী বিমল শঙ্কর নন্দ সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। শ্রী মানিক ডোলুই এবং শ্রী নীতীশ বিশ্বাস বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশে থেকে অ্যাডভোকেট লাকী বাছাড়, সহযোগী লেখক এবং এইচআরসিবিএম বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের কনভেনর, আন্তর্জাতিক অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এই উদ্যোগে বিশেষ মাত্রা যোগদান করেন। এই উপলক্ষ্যে অ্যাডভোকেট লাকী বাছাড়, এইচআরসিবিএম-এর পক্ষ থেকে নোভার্সিটি ফাউন্ডেশনকে একটি স্মারক সম্মাননা প্রদান করেন, যা অখ্যাত স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ঐতিহ্য সংরক্ষণে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগের প্রতি সম্মান ও সমর্থনের প্রতীক।

অ্যাডভোকেট লাকী বাছাড় এই মহৎ উদ্যোগে সক্রিয় সহযোগিতার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন। তিনি নোভার্সিটি ফাউন্ডেশনের নীতি, দৃষ্টিভঙ্গি ও নির্দেশিকা অনুসরণ করে বাংলাদেশে গবেষণা, নথিবদ্ধকরণ এবং ঐতিহাসিক তথ্য সংগ্রহের কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। এই উদ্যোগ ভারত ও বাংলাদেশের অভিন্ন ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার, স্বাধীনতা সংগ্রামের স্বল্পপরিচিত ব্যক্তিত্ব এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনুপ্রেরণাদায়ক ব্যক্তিত্বদের জীবন ও অবদান সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি তার মূল বক্তব্যে বলেন,”দীর্ঘ ত্যাগের মাধ্যমে বিপ্লবীরা দেশকে স্বাধীন করেছে।ব্রিটিশরা তখনকার সময়ের অনেক রেকর্ড নষ্ট করে গেছে, তাই অনেকের নাম আমরা জানি না কিন্তু হৃদয় রঞ্জন চক্রবর্তী যার সম্পর্কে লিখতে পেরে আমি গর্বিত। আমরা চাই পরবর্তী প্রজন্ম এই বইয়ের মাধ্যমে বিপ্লবীদের নাম জানুক… আমি ড. শুভ্র চক্রবর্তীকে ধন্যবাদ জানাই। আগামীতে আমরা নোভার্সিটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশে একত্রে কাজ করবো।”
শ্রীমতী অগ্নিমিত্রা পাল, ড. কল্যাণ চক্রবর্তী এবং শ্রী কার্তিক মহারাজ ব্যক্তিগতভাবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে তাঁরা গ্রন্থ প্রকাশ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের উত্তরাধিকার সংরক্ষণ ও সম্মান জানানোর লক্ষ্যে নোভার্সিটি ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগের সাফল্য কামনা করে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান।

নোভার্সিটি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠাতা ড. শুভ্র চক্রবর্তী, উপদেষ্টা শ্রী শুভেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, পশ্চিমবঙ্গের আহ্বায়ক শ্রীমতী মঞ্জু মুখোপাধ্যায় এবং কোষাধ্যক্ষ শ্রী দেবাশিস নন্দী-সহ সহযোগী লেখক, গবেষক এবং ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত স্বাধীনতা সংগ্রামী পরিবারের সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
‘হিরোজ অব এশিয়া’ প্রকল্পের মাধ্যমে নোভার্সিটি ফাউন্ডেশন সেই সব ঐতিহাসিক কাহিনি জনসমক্ষে তুলে ধরতে চায়, যেগুলি আজও বহু পরিবারের স্মৃতি, আঞ্চলিক নথিপত্র এবং বিচ্ছিন্ন ঐতিহাসিক দলিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সাহস, আত্মত্যাগ, সততা এবং দেশপ্রেম থেকে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার অঙ্গীকার এই উদ্যোগকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এটি ‘হিরোজ অব এশিয়া’-কে ভৌগোলিক সীমানার ঊর্ধ্বে উঠে অভিন্ন ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার সংরক্ষণের একটি বৃহত্তর মঞ্চে পরিণত করার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের স্থায়ী বার্তাটি পুনরুচ্চারিত হয়—
“অখ্যাত বীরদের স্মরণ করুন। তাঁদের উত্তরাধিকার সংরক্ষণ করুন। নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করুন। জাতি সর্বাগ্রে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *