রুবেল ইসলাম তাহমিদ, লৌহজং/শ্রীনগর মুন্সীগঞ্জ ।
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা হাফেজ মো. ফজলুল হক (৫৮) নাশকতা মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন। সোমবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে লতব্দী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে সিরাজদিখান থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ফজলুল হক উপজেলার চর নিমতলী গ্রামের মৃত ইদ্রিস মিয়ার পুত্র এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তিনি উপজেলার প্রভাবশালী নেতাদের একজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি দখল, সমবায় সমিতির কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাৎ, ভুয়া দলিলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বাড়িঘর দখল, সরকারি নদী ভরাটসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। মাত্র ১৫ হাজার টাকা মাসিক সম্মানীভিত্তিক পদে চেয়ারম্যান হয়েও কীভাবে তিনি অর্ধশত কোটি টাকার মালিক হলেন—এ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের নামে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, মসজিদ ও মাদ্রাসার ওয়াকফ সম্পত্তি জাল দলিল করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ইইএফ ফান্ড থেকে ৪ কোটি টাকা উত্তোলন, উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির মার্কেট থেকে ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলাকালীন সময়ে সমিতির জমি বেআইনিভাবে বিক্রি করে ১ কোটি টাকা আত্মসাৎসহ বহু অনিয়মে তিনি জড়িত ছিলেন। গত ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিএনপি ও ছাত্র সংগঠনগুলোর আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের ওপর দমন–পীড়নের অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আন্দোলন দমনে ভূমিকা রাখা কয়েকজন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন হাফেজ মো. ফজলুল হক।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহল মনে করছে, ফজলুল হকের গ্রেফতার “বিলম্বিত ন্যায়বিচারের সূচনা” হিসেবে গণ্য হতে পারে। সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাঁর বিরুদ্ধে নাশকতা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
