লালপুরে সাঁকোতে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত , প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি:
লালপুরে সাঁকোতে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় জৌতগৌরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে ।

জানা যায়, লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের জৌতগৌরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় টানা বর্ষণে পানিবন্দি হওয়ায়  ১শ ৪২ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। বিদ্যালয় সংলগ্ন লালপুর – দুড়দুড়িয়া সড়কে পানি প্রবাহের জন্য সাঁকো রয়েছে । বসন্তপুর বিল হয়ে বর্ষা মৌসুমে এ সাঁকো দিয়ে পানি বের হয়ে যেত। বিলের মধ্যে শতাধিক অপরিকল্পিত পুকুর খনন করায় গত কয়েক বছর মনিহারপুর, বেরিলাবাড়ী, আটটিকা, মির্জাপুর সহ ১০ টির বেশি গ্রাম বর্ষা মৌসুমে পানিবন্দি হয়ে পড়ে।

এবারে বিদ্যালয়ের ওয়াস ব্লক নির্মাণ করায় বিদ্যালয় সংলগ্ন সাঁকোটি দিয়ে পানি প্রবাহ বেশি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বসন্তপুর বিল উপচে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ ও যাতায়াতের একমাত্র পথ দীর্ঘদিন ধরে পানিতে তলিয়ে আছে। প্রতিদিন হাঁটুসমান নোংরা পানি মাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসতে হচ্ছে। এতে জামা-কাপড় ও বইপত্র ভিজে যাওয়ার পাশাপাশি অনেকে চর্মরোগেও ভুগছে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, স্কুলের ওয়াস ব্লকটি নির্মাণ করায় সাঁকো দিয়ে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে , এজন্যই এবারে বিদ্যালয়ের আঙিনা দীর্ঘ দিন পানিতে ডুবে রয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু মাসুম জানান, শ্রেণিকক্ষে সাপ, ব্যাঙ ও পোকামাকড় ঢোকার ভয়ে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পরামর্শে শিশু শ্রেণির পাঠদান সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। পাকা রাস্তা থেকে মাত্র ৫০ মিটার রাস্তা ভরাট দিয়ে উঁচু করলে অন্তত যাতায়াত সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি মনে করেন।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোসা. নার্গিস সুলতানা বলেন, “উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান প্রকৌশল বিভাগকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

অভিভাবক ও শিক্ষকরা জানান, দ্রুত রাস্তা ও মাঠ ভরাট না করলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *