মুন্সীগঞ্জে এবছর আলু রোপণে ব্যস্ত কৃষক

রুবেল ইসলাম তাহমিদ শ্রীনগর/লৌহজং: মুন্সিগঞ্জ জেলায় মোট ৬টি উপজেলা রয়েছে, মুন্সিগঞ্জ সদর, শ্রীনগর, সিরাজদিখান, লৌহজং, টঙ্গীবাড়ী, এবং গজারিয়া উপজেলা, যা মুন্সীগঞ্জ জেলার প্রশাসনিক কাঠামো গঠন করে এবং এর অধীনে মোট ৬৮ টি ইউনিয়ন রয়েছে।  প্রতি বছর হাজার টন আলু উৎপাদন হয় এখানে, জেলায় জুরে – শ্রীনগর,লৌহজং, টঙ্গীবাড়ী, সিরাজদীখান উপজেলার আলু রোপণ করছেন কৃষকরা – যোগ যোগ ধরে আলু উৎপাদনে বিখ্যাত রাজধানীর কাছের জেলা মুন্সীগঞ্জ। শীতের আগমনে বর্ষায় ডুবে থাকা বিস্তীর্ণ ফসলি জমি গুলো জেগে উঠেছে। এখন এসব জমিতে আগাম আলু বীজ রোপণে ব্যস্ত কৃষক। দ্বিগুণ লাভের আশায় মুন্সীগঞ্জ সদর শ্রীনগর ও সিরাজদীখানের কয়েকটি স্থানে আগাম আলু রোপণ শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত রোপণ করা হয়েছে ৫০০ হেক্টর। তবে পুরোদমে আলু রোপণ শুরু হবে আরো দুয়েক সপ্তাহ পর। তবে জেলায় সাড়ে ১৪ হাজার মেট্রিক টন আলু বীজের ঘাটতি রয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিপ্লব কুমার মোহন্ত জানান, এবার জেলার ছয়টি উপজেলায় ৩৪ হাজার ৬৫৫ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ এবং প্রায় ১১ লাখ মেট্রিক টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর জেলায় গত বছর আবাদ হয়েছিল ৩৪ হাজার ৫৫ হেক্টর।  কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় ৬৯ হাজার ৩১০ মেট্রিক টন বীজ আলুর চাহিদার বিপরীতে মজুদ রয়েছে ৫৪ হাজার ৬৭০ মেট্রিক টন। ফলে ঘাটতি রয়েছে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার মেট্রিক টন। জানা গেছে, জেলার ৭৫ থেকে ৮০ হাজার কৃষক পরিবার আলু আবাদের সঙ্গে জড়িত। পরিবারগুলো আলু রোপণের মাধ্যমে আর্থিক সচ্ছলতার আশায় নতুন স্বপ্ন বুনছে।

সদর উপজেলা, টঙ্গীবাড়ি, সিরাজদিখান, লৌহজং, গজারিয়া ও শ্রীনগর উপজেলায় কৃষকদের ব্যস্ততা দেখা গেছে। তাদের সঙ্গে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বিভিন্ন জেলার নারী-পুরুষ শ্রমিকরাও।  কৃষকরা জানান, আলু আবাদের মৌসুম এলে সুনামগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, রংপুর, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, নীলফামারী, ময়মনসিংহ সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিকরা কাজ করতে আসেন,, টঙ্গীবাড়ী হাসাইল গ্রামে মহিলাদের বীজ আলু কাটতে দেখা গেছে। প্রতিবেশী গৃহবধূরাও মজুরির আশায় এ কাজে যুক্ত হয়েছেন।

গত বছর আগাম আলু রোপণ করে ভালো দাম না পাওয়ায়। এবারও রোপণ শুরু করেছ কিন্তু  দ্বিগুণ দামে আলুর  বিক্রির আসায় ,আগাম আলুতে ভালো দাম পাওয়ার আশায় রোপণ শুরু করছেন তারা ৩টি উপজেলার জমি মালিক রা।  এদিকে বীজ আলুর দাম অনেক বেশি। এখন বীজ আলুর বস্তা ৪ হাজার টাকা। বাক্স আলুর দাম ২৫ শ টাকা প্রতি বক্স চলছে। গতবারের তুলনায় এ বছর কানি প্রতি ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ বেড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *