মোঃ মাসুদ রানা, সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জের) প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার শেখরীনগর গ্রামে এক তরুন মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে এখন শিকল বন্দি জীবন কাটছে। অর্থাভাবের কারণে মেধাবী এই তরুনকে সঠিক চিকিৎসা না দিতে পেরে ঘরে দুই পায়ে শিকল বন্দি করে রেখেছে তার পরিবার।
সরেজমিনে দেখা যায়, দারিদ্র পরিবারের এক চরম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। আলমগীর বয়স ২৪ তার যৌবন আজ বন্দি মরিচা পড়া লোহার শিকলে দুই পায়ে তালা। গত ২ বছর যাবৎ ছোট্ট একটি টিনের ঘরে কাটছে তার শিকল বন্দি জীবন। রুবিয়া খাতুন-আওলাদ দম্পতির এক মেয়ে ও তিন ছেলে সন্তানের মধ্যে আলমগীর মেঝো। ছোট থেকে পড়া-লেখায় ছিলো অন্যদের তুলনায় ভালো এবং সে কৃতিত্বের সঙ্গে ২০১৭ সালে বানিজ্য বিভাগ থেকে এসএসসি এবং ২০২০ সালে মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পাশও করেন। হঠাৎ করেই আলমগীর মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এমন স্থানে দাঁড় করিয়েছে তাকে (আলমগীর) শিকল বন্দী করতে বাধ্য হয়েছে পরিবার।
আলমগীরের বাবা নেই, মা রুবিয়া খাতুন সামান্য ভাতায় চলে তাদের জীবন। দিনমজুরি করে কোনো মতে চলে তাদের। আর এই চরম দারিদ্র্যতাই কেড়ে নিয়েছে আলমগীরের স্বাভাবিক জীবনের চিকিৎসা অধিকার। যেখানে তিন বার পেট ভরে খাবার জোগার করা অসম্ভব, সেখানে ছেলের উন্নত চিকিৎসা এ যেন এক বিলাসিতা। দরিদ্র্য ও অসহায় আলমগীরকে শিকল থেকে মুক্ত করে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা।
প্রতিবেশী মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, আলমগীরের পরিবারটি খুবই অসহায় ও দরিদ্র্য। তাই তারা হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাবে সেই অবস্থাটুকু নেই। মেধাবী শিক্ষার্থী আলমগীর হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। সে বিভিন্ন জায়গায় চলে যায় সেই কারনেই শিকল দিয়ে তাকে আটকে রাখা হয়েছে। সমাজের বিত্তশালী যারা আছেন তারা যদি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন তবে আলমগীরের সুচিকিৎসা করা সম্ভব।
মানসিক ভারসাম্যহীন আলমগীর হোসেনের মা রুবিয়া খাতুন বলেন, আমার ছেলে এইচএসসি পরীক্ষায় পাশ করার পরে হঠাৎ করেই পাগলামি ও মানুষের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে শুরু করে। পরে শিকলে বন্দি করি এবং কিছু জমি বিক্রি করে ওর চিকিৎসাও করায়। একটু সুস্থ হয়ে বাড়ি আসলেও আবার কয় দিন পর সেই আগের মতোই পাগলামি শুরু করলো, হঠাৎ করেই ওর বাবা স্ট্রোক করে মারা যায়। এখন যে অবস্থা তাতে করে মানুষের দাঁড়ে দাঁড়ে হাতপাতা ছাড়া আর কোন উপায় নাই।
আমার তো বাপ-মা-স্বামী কেউ নাই,পাগল পোলাডারে নিয়ে কোন মতে বেঁচে আছি। আমার ছেলেরা ছোট, ওরা তেমন একটা কাজ করতে পারে না। এখন যে অবস্থা, সংসার চলে না আর সেখানে ওর (আলমগীর) চিকিৎসা করামু কেমনে। এখন দেখছি, আমি মরে গেলে ওরে কে দেখবো ? আমার পেটের সন্তান ওরা সবাই আমার কাছে সমান।
শিকলে বাধা অবস্থায় আলমগীর জানায়, দিন রাত সব সময় তাকে শিকল দিয়ে বেধে রাখে। দুই পায়ে শিকল দিয়ে দুইটি তালা দিয়ে তাকে বেধে রাখা হয়েছে। তারও ইচ্ছা করে ভাল হয়ে বন্ধুদের সাথে চলতে সমাজে সকলের সাথে মিশতে।
সাটুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার) মো: আ: লতিফ বলেন, পরিবারটি দরিদ্র ও অসহায়। আলমগীরের বাবাও ঋণে জর্জরিত হয়ে মারা গেছে। ওদের পরিবারের যে অবস্থা তাতে চিকিৎসা করানোর সামর্থ ওদের নেই। সমাজের বিত্তশালীরা এগিয়ে আসলে অসহায় এই তারুন্যকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।
