মেহেদী হাসান, পুঠিয়া(রাজশাহী): রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের বানেশ্বরসহ পুঠিয়া উপজেলা এলাকায় ব্যাপক হারে মাছ চাষ হওয়ায় প্রতিদিন শত শত ট্রাকে করে তাজা মাছ পাঠানো হয় ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায়। মাছকে জীবিত রাখতে ট্রাকে রাখা হয় পানি, আর এই পানিই এখন সাধারণ মানুষের জন্য যেন বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানা গেছে, পুঠিয়া, দুর্গাপুর, চারঘাট ও বাগমারা উপজেলায় বড় পরিসরে মাছ চাষ হয়। এই এলাকায় ব্যাপক হারে মাছ চাষ হওয়ায় প্রতিদিন ছোট-বড় শত শত ট্রাকে করে মাছ ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। ভালো দাম পাওয়ার আশায় পানিতে মাছ পরিবহন করা হলেও, ট্রাক চলাচলের সময় সেই পানি রাস্তায় ছিটকে পড়ে। এতে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে ও বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ।
পথচারীদের শরীরেও পানি ছিটকে জামাকাপড় নষ্ট হচ্ছে, ফলে ঘটছে কথা কাটাকাটি এমনকি হাতাহাতির মতো ঘটনাও স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ট্রাকগুলো থেকে ছিটকে পড়া পানিতে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে পড়ে, ফলে প্রায়শই ঘটছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা এবং বিভিন্ন স্থানে সড়কের পিচ উঠে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, “দুই টাকার মাছে খাচ্ছে কোটি টাকারসড়ক।” তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কোটি কোটি টাকা খরচ করে নির্মিত মহাসড়ক আজ মাছের পানিতে ধ্বংসের পথে। এ বিষয়ে পবা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) কাজী
মোজাম্মেল হক বলেন, “দিনে গাড়ি চলাচল করতে দেওয়া হয় না, রাতের বেলায় তারা চলাচল করে। তবে বিষয়টি নিয়ে আমাদের আরও পরিকল্পনা আছে।”
পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিয়াকত সালমান জানান, “বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর পাচ্ছি, মাছের গাড়ি থেকে পানি পড়ে রাস্তা নষ্ট হচ্ছে। এই অঞ্চলে মাছ চাষ ব্যাপক, তাই সেটা রক্ষা করতে হবে। একইসাথে সড়ক যেন নষ্ট না হয়, সেটিও দেখতে হবে।” তিনি আরও বলেন, বিকল্প পথ খোঁজার চেষ্টা চলছে এবং ভবিষ্যতে সবকিছু সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া বে।
এলাকাবাসীর দাবি, এই সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপপ্রয়োজন। বিশেষভাবে মাছবাহী ট্রাকে পানি পড়া বন্ধে কড়া নিয়ম চালু, সড়কে স্পিড কন্ট্রোল ও ট্রাকের গতি সীমিত করার দাবি জানানতারা। একইসাথে, বিকল্প পরিবহন পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহবান জানানো হয়েছে। সড়কের এমন ক্ষতির পেছনে যথাযথ তদারকির অভাব ও নিয়মিত পরিবহন নিয়ন্ত্রণ না থাকাকে দায়ী করছেন সচেতন মহল। তারা দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এলাকাবাসী ও সরকারের কোটি টাকার অবকাঠামো বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। মাছ পরিবহনের বিকল্প পদ্ধতি বা নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ করে দ্রুত সমাধান করা হোক।
