বিশ্ব ব্যাংক ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি দলের বাগাতিপাড়ায় সিটিএম-পিইআই পাইলট প্রকল্প পরিদর্শন

আনোয়ার হোসেন অপু, বাগাতিপাড়া (নাটোর) :

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় সিটিএম প্রকল্প এবং প্রোডাক্টিভ ইকোনোমিক ইনক্লুশন (পিইআই) পাইলট প্রকল্পের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন বিশ্ব ব্যাংক ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের একটি প্রতিনিধি দল। আজ (রবিবার) সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সংগঠিত ক্লাব, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, গবাদি পশুর খামার ও হস্তশিল্প সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিদর্শন এবং উপকারভোগীদের সাথে মতবিনিময় করেন তারা।

বিশ্ব ব্যাংকের টাস্ক টিম লিডার জেসমিন রাজভান্ডারী এবং সোশ্যাল প্রোটেকশন স্পেশালিস্ট অভিরুপ সরকারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক এম এম মাহমুদুল্লাহ, উপ-পরিচালক (প্রতিবন্ধী ভাতা শাখা) নুরুল হক মিয়া, নাটোর জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, বাগাতিপাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) এর ফোকাল এজিএম হানিফ মিয়া, টিম লিডার আব্দুর রব পাটোয়ারী এবং প্রকল্প অফিসের ফিল্ড সুপারভাইজার জীবন চন্দ্র বর্মন।

পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিরা উপকারভোগীদের আয়-বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম, যেমন গরু-ছাগল পালন, হস্তশিল্প ও ক্ষুদ্র ব্যবসা ঘুরে দেখেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা, সাফল্য ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানতে চান।

এর আগে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মোট ৯৮৭ জন উপকারভোগীর মধ্যে জীবন দক্ষতা, আর্থিক সাক্ষরতা ও ব্যবসায়িক দক্ষতা বিষয়ক পাঁচদিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এই কর্মশালায় অংশগ্রহণের পর ৩৯৭ জন প্রতিবন্ধী ও ৫৯০ জন বিধবা নারীকে জনপ্রতি ৪৫ হাজার টাকা করে এককালীন আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে মোট ৪ কোটি ৪৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা এই অনুদান হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে।

নাটোর জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “সমাজসেবা মন্ত্রণালয়ের আওতায় দেশের ছয়টি জেলায় এই কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর অংশ হিসেবে বাগাতিপাড়ায় প্রশিক্ষণ ও অনুদান প্রদান কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। উপকারভোগীরা যাতে এই অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করে আত্মকর্মসংস্থানে সক্ষম হয়, আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করছি। পরিদর্শনে দেখা গেছে তারা ইতোমধ্যে ভালোভাবে এগোচ্ছে।”

ফিল্ড সুপারভাইজার জীবন চন্দ্র বর্মন জানান, “এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো – চরম দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নারী-পুরুষ এবং তাদের পরিবারকে টেকসই জীবিকায়নের মাধ্যমে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু অনুদান নয়, উপকারভোগীদের আর্থিক শিক্ষা, আত্মবিশ্বাস ও জীবন দক্ষতার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা ভবিষ্যতে নিজেরাই একটি উন্নত জীবনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।”

পরিদর্শনকালে উপকারভোগীরা উপস্থিত প্রতিনিধি দল, সমাজসেবা অধিদপ্তর, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় এবং রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা জানান, এই প্রকল্প তাদের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

এ ধরনের প্রকল্প সম্প্রসারণ ও আরও অধিক সংখ্যক দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান উপকারভোগীরা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রতিনিধিরাও কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে আরও উন্নয়নমূলক কর্মসূচির আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *