পূর্ণ যুদ্ধের শঙ্কা পাকিস্তান–আফগানিস্তানের মধ্যে

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পাকিস্তান–আফগানিস্তান সীমান্তে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের মধ্যে পরিস্থিতি শান্ত করতে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছে চীন। বেইজিং বলেছে, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধিতে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে সংকট নিরসনে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। খবর আলজাজিরার

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, নিজস্ব চ্যানেলে ইসলামাবাদ ও কাবুলের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চীন সবসময় সংলাপ ও আলোচনার পক্ষে।

এদিকে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পেছনে থাকা উত্তেজনার ইতিহাসও নতুন করে সামনে এসেছে। গত বছরের অক্টোবরে কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় দোহায় আলোচনার পর দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তার আগে সীমান্তজুড়ে টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ এবং পাকিস্তানের বিমান হামলার ঘটনা ঘটে। ইসলামাবাদের দাবি ছিল, সীমান্তপারের হামলা বাড়ানো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দমন করতে কাবুল কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তবে আফগানিস্তান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বরং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আইএসআইএল–ঘনিষ্ঠ যোদ্ধাদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তোলে।

সাম্প্রতিক লড়াইয়ে দুই পক্ষের হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, ১৩৩ তালেবান যোদ্ধা নিহত এবং দুই শতাধিক আহত হয়েছে। অন্যদিকে তালেবান সরকার বলছে, তাদের আটজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছে, তবে পাল্টা হামলায় ৫৫ পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং ১৯টি সামরিক পোস্ট দখলের দাবি করা হয়েছে। পাকিস্তান অবশ্য জানিয়েছে, তাদের দুই নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন।

আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় পরিসরে অভিযান চালানো হয়, যা প্রায় চার ঘণ্টা স্থায়ী ছিল। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের পর মধ্যরাতে অভিযান বন্ধ করা হয়।

পাকিস্তানের দাবি, সাম্প্রতিক কয়েকটি আত্মঘাতী হামলা ও নিরাপত্তা চৌকিতে আক্রমণের জেরে তারা আফগানিস্তানের ভেতরে বিমান হামলা চালিয়েছে। কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে আফগানিস্তান বলছে, এসব হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং তারা পাল্টা জবাব দিয়েছে।

সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ তোরখাম ক্রসিংয়ের কাছেও গোলাগুলি ও গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

এদিকে সামরিক শক্তির দিক থেকে দুই দেশের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। পাকিস্তানের সেনাসদস্য প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার, রয়েছে শত শত যুদ্ধবিমান, হাজারো সাঁজোয়া যান এবং পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার। বিপরীতে আফগানিস্তানের বিমান শক্তি সীমিত এবং অধিকাংশ সামরিক সরঞ্জাম পুরোনো।

সংঘাত পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। ইরান ও রাশিয়াও দ্রুত সীমান্ত হামলা বন্ধ করে সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর তাগিদ দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *