তরমুজবোঝাই ট্রলার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে উপখাদ্য পরিদর্শক গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় তরমুজবোঝাই ট্রলার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় মো. অলিউল্লাহ ওরফে অলি (৪৩) নামের এক উপখাদ্য পরিদর্শককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৭ মার্চ) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সড়ক এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

অলিউল্লাহ মির্জাগঞ্জ খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে উপখাদ্য পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত। তার বাড়ি বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামে।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী এবং ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার কয়েকজন কৃষক দীর্ঘদিন ধরে বাউফলের চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরাঞ্চলে বর্গা নিয়ে তরমুজ চাষ করে আসছেন। চলতি মৌসুমে তারা চর দিয়ারাকচুয়া এলাকায় তরমুজ উৎপাদন করেন। অভিযোগ রয়েছে, চাষাবাদ শুরুর পর থেকেই অলিউল্লাহ ওই জমির মালিকানা দাবি করে তরমুজ কাটতে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।

গত ১৬ মার্চ চাষিরা প্রায় ৯ হাজার তরমুজ সংগ্রহ করে দুটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে তুলে ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নেন। এ সময় অলিউল্লাহর নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আবারও চাঁদা দাবি করে। চাষিরা অস্বীকৃতি জানালে তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক দুটি ট্রলার ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি ট্রলার ফেরত দেওয়া হলেও অন্যটি আর ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক আরব আলী বাদী হয়ে বাউফল থানায় অলিউল্লাহকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০–১২ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন।

বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম জানান, অলিউল্লাহর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাষিদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। তাকে গ্রেপ্তার করায় স্থানীয় তরমুজচাষিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *