গাজী মোবারক, সোনারগাঁ:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ওস্তাদের শরীর মাসাজ না করায় এক মাদরাসাছাত্রকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। পৌরসভার দাওয়াতুল কোরআন হাজী গিয়াসউদ্দিন প্রধান মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষক মনির হোসেনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠে।
আহত ছাত্র মো. ইমরান হোসেনের (১০) মা মোসলিমা বেগম বাদী হয়ে সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ করেন।
গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে তাকে নির্যাতন করা হয়। ওই ছাত্রকে তিন দিন একটি কক্ষে আটকে রেখে ঘটনার ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তার মা। অভিযুক্ত শিক্ষক এখন পলাতক।
জানা যায়, পৌরসভার ভট্টপুর এলাকায় অবস্থিত দাওয়াতুল কোরআন হাজী গিয়াসউদ্দিন প্রধান মাদরাসা ও এতিমখানায় ষোলপাড়া গ্রামের ইসলাম মিয়ার ছেলে মো. ইমরান হোসেন নাজেরা শাখায় আবাসিক থেকে পড়াশোনা করে। গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ঘুমাতে যাওয়ার সময় মাদরাসার শিক্ষক মো. মনির হোসেন তার শরীর মাসাজ করার জন্য ইমরানকে ডেকে আনেন। এ সময় ইমরান অসুস্থ থাকায় মাসাজ করতে পারবেন না বলে জানায়।
এতে ওই শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে বেত দিয়ে তাকে পিটিয়ে আহত করে মাদরাসার একটি কক্ষে আটকে রাখেন। সোমবার সকাল ১০টার দিকে ছাত্রের মা মোসলিমা বেগম মাদরাসায় ছেলের খোঁজ নিতে গেলে অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
মোসলিমা বেগম জানান, তার ছেলে ওই শিক্ষকের শরীর ম্যাসেজ করে না দেওয়ায় ঘুম থেকে ডেকে নির্যাতন করেছে। তার ছেলেকে তিন দিন আটকে রাখার কারনে কোনো কিছু জানা সম্ভব হয়নি। সোমবার মাদরাসায় গিয়ে অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। নির্যাতনকারী শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
দাওয়াতুল কোরআন হাজী গিয়াসউদ্দিন প্রধান মাদরাসা ও এতিমখানার অধ্যক্ষ মো. ইউনুস আলী বলেন, তিনি মাদরাসায় ছিলেন না। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। এ বিষয়ে এলাকায় মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাশেদুল হাসান খান বলেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
