সিরাজগঞ্জে সরিষার মাঠে মৌ চাষীরা মধু সংগ্রহে ব্যস্ত, লক্ষ্যমাত্রা ৪০৪ মেট্রিক টন

এইচএম মোকাদ্দেস,সিরাজগঞ্জ: সরিষার হলুদ ফুলে ভরে উঠেছে সিরাজগঞ্জের বিস্তীর্ণ মাঠ। শীত মৌসুমের শুরুতেই এসব সরিষা ক্ষেতে স্থাপন করা হয়েছে মৌ চাষীদের মধু সংগ্রহের বাক্স। ফলে পুরো এলাকায় এখন মধু উৎপাদনকে ঘিরে বাড়ছে কর্ম ব্যস্ততা। সরিষা চাষের দিক থেকে দেশের শীর্ষে সিরাজগঞ্জ জেলা হওয়ায় প্রতি বছরই মৌ চাষীদের কাছে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয় এ অঞ্চল।

সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানাযায়, চলতি মৌসুমে এবার জেলায় ৯০হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। এ জমিগুলো থেকে ৪০৪ মেট্রিক টন মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।এরমধ্যে উল্লাপাড়া উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ২৪ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। এ থেকে প্রায় ১৯৬ মেট্রিক টন সরিষার মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।এ উপজেলার উধুনিয়া, বড় পাঙ্গাসী, লাহিড়ী মোহনপুর, বাঙ্গালা, সলঙ্গা, পূর্ণিমাগাঁতী, কয়ড়া ও দুর্গানগর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি সরিষার চাষ হয়েছে।

সরিষা গাছে ফুল ফোটার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মৌ চাষীরা মধু সংগ্রহের জন্য এজেলার বিভিন্ন উপজেলায় এসে তাদের মৌ বাক্স স্থাপন করে থাকেন। গত এক সপ্তাহে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শতাধিক মৌ খামারিরা জেলার বিভিন্ন এলাকায় মধু সংগ্রহের জন্য লক্ষাধিক বাক্স স্থাপন করেছেন।

প্রতিটি মৌ বাক্স থেকে গড়ে সপ্তাহে এক থেকে দেড় মন মধু সংগ্রহ করা হয়। সে হিসাবে চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৪ লাখ ৪ হাজার কেজি বা ৪০৪ মেট্রিক টন মধু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয় মৌ খামারি রাকিব হোসেন জানান, তিনি বড় পাঙ্গাসী এলাকায় ২০০টি মৌ বাক্স স্থাপন করেছেন। তার লক্ষ্যমাত্রা প্রায় তিন হাজার কেজি মধু উৎপাদন। সাতক্ষীরা থেকে আসা মৌ খামারি মোঃ পলাশ জানান, তিনি ১৩০টি মৌ বাক্স বসিয়েছেন এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রায় দুই হাজার কেজি মধু সংগ্রহ করতে পারবেন বলে আশা করছেন। একইভাবে যশোর থেকে আসা মৌ খামারি আমিরুল ইসলাম উল্লাপাড়া উপজেলার বাগমারা মাঠে তিন শতাধিক মৌ বাক্স স্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, অতিরিক্ত শীত বা কুয়াশা না থাকলে এবার সাড়ে চার হাজার কেজির মতো মধু উৎপাদন সম্ভব হবে।

এদিকে উল্লাপাড়ার লাহিড়ী মোহনপুরে জাইকার অর্থায়নে মধু প্রসেসিং প্ল্যান্ট স্থাপিত হওয়ায় মৌ চাষীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। উপজেলা মৌ চাষী সমবায় সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান শিহাব ও সাধারণ সম্পাদক ছোরমান আলী জানান, এই প্ল্যান্টে প্রতিদিন প্রায় এক মেট্রিক টন মধু পরিশোধন করা যাবে। এতে করে মৌ চাষীদের উৎপাদিত মধু প্রক্রিয়াজাত করতে অন্য এলাকায় যেতে হবে না।

সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ,কে,এম মনজুরে মাওলা বলেন, সরিষা আবাদ ও মধু সংগ্রহে দেশের মধ্যে সিরাজগঞ্জ জেলা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। এ কারনে মধু উৎপাদনেও এ জেলা অন্যতম। এখানে সরিষার ব্যাপক আবাদ হওয়ায় প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মধু উৎপাদিত হয়। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে ৪০৪ মেট্রিক টন মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *