বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার ব্যবসায়ী পিন্টু আকন্দ অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন

বগুড়া প্রতিনিধি :
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া বাজার এলাকার লোটো শো-রুমের ব্যবস্থাপক ও ব্যবসায়ী পিন্টু আকন্দ (৩৮) অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। অনলাইনে জুয়া খেলার মুদ্রা (বিটকয়েন) কেনাবেচার ১০ লাখ টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরেই ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের হাতেই প্রাণ হারান তিনি।

পুলিশ জানায়, নিহত পিন্টু আকন্দ দুপচাঁচিয়া উপজেলার ডিম শহর এলাকার জুয়েল ও সজিবের মাধ্যমে অনলাইনে জুয়া খেলার অ্যাপ, সফটওয়্যার ও বিটকয়েন লেনদেন করতেন। সম্প্রতি ১০ লাখ টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। দুই সপ্তাহ আগে সালিশ বৈঠক হলেও বিরোধের কোনো সমাধান হয়নি।

ঘটনার দিন ২২ ডিসেম্বর রাত সোয়া ৯টার দিকে দুপচাঁচিয়া বাজারে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে পিন্টু আকন্দকে জোরপূর্বক টেনে-হেঁচড়ে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। মাইক্রোবাসে তোলার পর চিৎকার শুরু করলে তার মুখ স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে পেছনের সিটে ফেলে রাখা হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে আদমদীঘি উপজেলার শালগ্রামে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে টাকা আদায় করার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই পিন্টু আকন্দের মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ ফেলে দেওয়ার জন্য মাইক্রোবাস নিয়ে বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে বেড়ায় দুর্বৃত্তরা।

এদিকে মাইক্রোবাসের মালিক জিপিএসের মাধ্যমে গাড়ির সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে এবং চালক ফোন রিসিভ না করায় গাড়িটি বন্ধ করে দেন। এরপর দুর্বৃত্তরা মাইক্রোবাসে মরদেহ রেখেই পালিয়ে যায়। পরে আদমদীঘি উপজেলার কোমারভোগ গ্রামের একটি সড়ক থেকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলেন—
মাইক্রোবাস চালক সানোয়ার (৪০),
সাকিব (৩৫),
এনামুল (৩৮) ও
বাবলু মিয়া (৪০)।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে এনামুল ও বাবলু মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর দুইজন সানোয়ার ও সাকিব বর্তমানে পুলিশ রিমান্ডে রয়েছেন। তবে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীরা এখনও পলাতক।

দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন জানান, নিহত পিন্টু আকন্দের স্ত্রী সাবিনাজ বেগম বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *