রাউজানে দরজা আটকে বসতঘরে আগুন, এলাকাজুড়ে আতঙ্ক

রাউজান প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের রাউজানে বাইরে থেকে দরজা আটকে একটি বসতঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ভোরে পৌরসভার সুলতানপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার আগুন দেওয়া বাড়িটি কাতার প্রবাসী সুখ শীল নামের এক ব্যক্তির। সেখানে তার বোন ও বোন জামাই অনিল শীল পরিবার নিয়ে বসবাস করেন।

এ নিয়ে গত পাঁচদিনে উপজেলার তিনটি এলাকায় একই ধরনের ঘটনা ঘটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যেসব ঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে, সেসবের প্রত্যেকটিই হিন্দু পরিবারের।

প্রত্যেকটি অগ্নিকাণ্ডের পর কেরোসিন লাগানো কাপড় এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতনদের নাম-মোবাইল নম্বরসহ হাতে লেখা কাগজ জব্দ করেছে পুলিশ।

রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ভুক্তভোগীদের দাবি, বাইরে থেকে ঘরের দরজা আটকে আগুন দেওয়া হয়েছে। আমরা সেখান থেকে বিভিন্ন জনের নাম লেখা একটি ব্যানার জব্দ করেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

ভোর রাতে আগুন দেখে অনিল শীল ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে বাইরে থেকে দরজা লাগানো দেখতে পান। এ সময় তিনি ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ঘরের বেড়া কেটে বের হয়ে আসেন। প্রতিবেশী ও ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নেভান। আগুনে দুটি ঘর পুড়ে গেছে।

এ দিকে গত শনিবার ভোর রাতে একই কায়দায় পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ঢেউয়াপাড়া এলাকায় বিমল তালুকদার ও রুবেল দাশ নামে দুই ব্যক্তির বসতঘরে আগুন দেওয়া হয়। আগুন লাগার বিষয়টি টের পেয়ে বাসিন্দারা ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে বাইরে থেকে দরজা আটকানো থাকার বিষয়টি বুঝতে পারেন।

এর আগে শুক্রবার ভোর রাতে কেউটিয়া ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সাধন বড়ুয়া ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সোনা পাল ও কামিনী মোহন পালের বসত ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

ওই দিনও উঠান থেকে কেরোসিন মিশ্রিত কাপড়, বিভিন্ন নেতা ও সরকারের ঊর্ধ্বতনদের নাম ও মোবাইল নম্বর লেখা কাগজ উদ্ধার করে পুলিশ।

রাউজান থানার ওসি সাজেদুল বলেন, ‘মঙ্গলবার ভোরের মত একই কায়দায় আগের ঘরগুলোতে আগুন দেওয়া হয়েছে। সেগুলোর ঘটনায় মামলা হয়েছে। আমরা বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছি।’

রাউজানের ইউএনও এস এম রাহাতুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা সবাইকে সতর্ক করেছি। পাড়া-মহল্লায় কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। তারা এখন থেকে পাহাড়ার ব্যবস্থা করবে। বিষয়গুলো নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আমরা বুঝতে পারব এগুলো কেন হচ্ছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *