ছিনতাই ও অপহরণচেষ্টা, পৃথক অভিযানে প্রাইভেটকারসহ গ্রেপ্তার ৪

জেলা প্রতিনিধিঃ সিলেট নগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকায় প্রকাশ্যে ছিনতাই এবং মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে কর্মজীবী নারীকে অপহরণের চেষ্টার ঘটনায় পৃথক অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে অপহরণচেষ্টায় ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার।

পুলিশ জানায়, বুধবার (১১ মার্চ) ভোরে বাংলাদেশ পুলিশ–এর বিমানবন্দর থানা ও কানাইঘাট থানা–এর যৌথ অভিযানে কানাইঘাট এলাকা থেকে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য রশিদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি কানাইঘাটের বিষ্ণুপুর এলাকার বাসিন্দা।

গত ৮ মার্চ কর্মজীবী নারীকে অপহরণের চেষ্টার ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মো. জাকির মিয়া (২৬), মো. কাওছার আহমদ (৩৪) ও জসিম মিয়া (৩৬)।

পুলিশ জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছিনতাইয়ের ভিডিও ফুটেজে মোটরসাইকেল থেকে নেমে ব্যাগ ছিনিয়ে নিতে যাকে দেখা যায় তিনি রশিদ আলী। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিলেট নগরীর সোবহানীঘাট এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে অপহরণচেষ্টায় ব্যবহৃত সাদা রঙের প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সিলেট নগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকায় দিনদুপুরে মোটরসাইকেলে আসা ছয় ছিনতাইকারী একটি অটোরিকশার গতিরোধ করে। পরে তারা অটোরিকশার যাত্রী কর পরিদর্শক ইয়াসমিন আক্তারের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ব্যাগে প্রায় ১৫–২০ হাজার টাকা ও স্বাক্ষর করা চেক বইয়ের কয়েকটি পাতা ছিল। তবে আইফোন ও এটিএম কার্ড একটি রেস্টুরেন্টের সামনে রেখে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।

এ ঘটনায় এয়ারপোর্ট থানা–এ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ইয়াসমিন আক্তার।

এর এক সপ্তাহ পর নগরীর সাগরদিঘির পার সড়কেও আরেক নারীর কাছ থেকে ভ্যানিটি ব্যাগসহ মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরপর দুটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় সিলেট নগরীতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এবং নগরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এদিকে গত ৮ মার্চ সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কমলগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ বালিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ফাতেমা পারভেজ নিশি (২৯) কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বটতলা বাজারে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় একটি সাদা প্রাইভেটকার তাকে শ্রীমঙ্গল যাবেন কিনা জিজ্ঞেস করে। তিনি অস্বীকৃতি জানালে গাড়িটি তাকে অনুসরণ করতে থাকে।

একপর্যায়ে গাড়িতে থাকা এক ব্যক্তি নেমে তার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক গাড়িতে তোলার চেষ্টা করে। তবে সাহসিকতার সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরে তিনি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

পরে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ–এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা এবং শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ওয়াহিদুজ্জামান রাজুর নির্দেশনায় একটি বিশেষ টিম তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি ও ম্যানুয়াল সোর্সিংয়ের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে গত ১০ মার্চ সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপহরণচেষ্টায় ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটিও উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *