হত্যা মামলায় সাবেক সেনাকর্মকর্তা মাঞ্জিল হায়দার ফের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় ঢাকার আদাবরে পোশাক শ্রমিক রুবেল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত সাবেক মেজর মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীকে (৪৮) আবারও ৩ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এতথ্য নিশ্চিত করেন।

এ মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতে হাজির করে ফের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. টিপু সুলতান।

আবেদনে বলা হয়, মাঞ্জিল হায়দার ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রধানমন্ত্রীর পলাতক সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক সিদ্দিকির ঘনিষ্ঠজন হওয়ার সুবাদে তাদের আলোচনা ও পরামর্শে সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে পেশাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে জানা যায়। তার ধারাবাহিকতায় ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর তাদের নির্দেশনায় সরকার নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও তার সব সহযোগী অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রমকে গতিশীল করার জন্য এবং সরকারকে অস্থিতিশীল করা ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও তার সব সহযোগী অঙ্গসংগঠনকে নিয়ে ঢাকা শহরে বিভিন্ন এলাকায় ষড়যন্ত্র করে। তাদেরকে প্রয়োজনীয় অর্থ ও কু-মন্ত্রণা দিতেন বলে জানা যায়। মামলার পলাতক আসামিদের সঙ্গে মাঞ্জিল হায়দারের যোগাযোগ অব্যাহত আছে বলে তদন্তকালে জানা যায়। মামলার অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের সঠিক নাম-ঠিকানা জেনে পলাতকদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে তাকে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন এর বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের শেষ দিন অর্থাৎ ৫ আগস্ট রুবেলসহ কয়েকশ ছাত্র-জনতা বেলা ১১টার দিকে আদাবরের রিংরোড এলাকায় প্রতিবাদী মিছিল বের করে। এসময় পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতীলীগ, কৃষকলীগ, মৎস্যজীবী লীগের নেতাকর্মীরা গুলি চালায়। এতে রুবেল গুলিবিদ্ধ হয়। নিকটস্থ একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গত বছরের ২২ আগস্ট রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম আদাবর থানায় মামলা দায়ের করেন।

উল্লেখ্য, গত ৯ এপ্রিল রাজধানীর মহাখালীর ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর কয়েক দফা রিমান্ড শেষে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *