সাবেক ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার কৃষিতে ধান কাটা রিপার মেশিন

 

মোঃ নাজমুল হাসান (ফুলবাড়ী,কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সাবেক ছিটমহল দাসিয়ারছড়ায় কৃষিতে এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। ধান কাটা রিপার মেশিনের ব্যবহার বদলে দিয়েছে এ অঞ্চলের কৃষির চিত্র। একসময় যেখানে কৃষকরা ধান কাটার সময় শ্রমিক সংকট, বেশি খরচ ও সময়ক্ষেপণের কারণে বিপাকে পড়তেন, এখন সেই সমস্যার সমাধান এনে দিয়েছে রংপুর বিভাগ গ্রামীণ ও কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের দেয়া রিপার মেশিন।


আগে এক বিঘা জমির ধান কাটতে ৮ থেকে ১০ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হতো এবং পুরো একটি দিন লেগে যেত। এখন রিপার মেশিনের সাহায্যে একই জমির ধান কাটা সম্ভব মাত্র ১ ঘণ্টায়। এতে খরচ কমেছে অর্ধেকেরও বেশি, সময় সাশ্রয় হয়েছে ব্যাপকভাবে। ফলে কৃষকরা একই মৌসুমে বেশি জমিতে চাষ করতে পারছেন।

দাসিয়ারছড়ার কৃষক ওবায়দুল হক বলেন, রংপুর বিভাগ দানা ফসল সংগঠন থেকে ত্রিশ জন গ্রুপের মাঝে আমাদেরকে একটি ধান কাটা রিপা, মেশিন দেয় সেই মেশিন দিয়ে আমরা দ্রুত আমাদের কেটে ফেলছি,“আগে শ্রমিক পাওয়া যেত না, ধান মাঠে পেকে যেত। এখন রিপার মেশিনে সহজেই ধান কেটে ফেলতে পারি ও অন্যান্য কৃষকদের ধান কেটে দেই সেখান থেকে আমাদের সংগঠনের ইনকাম হয় । এতে সময় ও খরচ দুই-ই বাঁচে।”এতে করে এই এলাকার কৃষির দৃশ্যপট বদলে গেছে।

স্থানীয় কৃষক, আবুল হোসেন মকবুল হোসেন ও মনু মিয়া জানান, আগে মাঠে ধান পাকলে শ্রমিক সংকটে আমরা হতাশ হতাম, এখন এই মেশিন আশাতে আমাদের আর কোন দুশ্চিন্তা নেই, খুব সহজে আমরা ধান কেটে নিতে পারি।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু হোসেন জানান, কৃষি উন্নয়নের জন্য সাবেক ছিটমহল দাশিয়াসড়ায় বিনামূল্যে একটি ধান কাটার রিপার মেশিন দেয়া হয়েছে এবং মাঝে মাঝে সেটির খোঁজখবর নেয়ার জন্য আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকের কাছে আসি।

উপজেলা কৃষি অফিসার নিলুফা ইয়াসমিন জানান,রংপুর বিভাগ কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২৪ -২৫ অর্থ বছরে উপজেলায় দশটি রিপার মেশিন বিতরণ করা হয়, তার মধ্যে সাবেক ছিটমহল দাসিয়াছড়ায় একটি দেয়া হয়েছে, এই মেশিনটি ব্যবহারের ফলে এই এলাকার কৃষি দৃশ্যপট বদলে গেছে। এতে কৃষকরা আধুনিক যন্ত্রের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন এবং উৎপাদনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। দাসিয়ারছড়ার মতো একসময় অবহেলিত এলাকার কৃষিতে এই পরিবর্তন স্থানীয়দের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এখন কৃষকরা বিশ্বাস করেন, প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিই দাসিয়ারছড়াকে এগিয়ে নেবে উন্নয়নের পথে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *