রংপুর প্রতিনিধিঃ রংপুর মহানগরীতে রাকিব হাসান (২০) নামে এক যুবদল নেতাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার ঘটনায় ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে নিহতের বাবা আব্দুস সামাদ বাদী হয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানায় এই হত্যা মামলাটি করেন। মামলায় ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে নগরীর বৈরাগীপাড়া (মাছুয়াপাড়া) এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত রাকিব হাসান রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং তিনি তাঁতীপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন বিকেলে রাকিব স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় একই এলাকার মো. মমিন (৪২) ও তার সহযোগীরা রিকশাযোগে এসে ধারালো অস্ত্র নিয়ে রাকিবের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে এবং গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রমতে, মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মমিন ও তার সহযোগীদের সঙ্গে রাকিবের দীর্ঘদিনের শত্রুতা ছিল। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে রাকিবের পা ভেঙে দিয়েছিল মমিন। ওই ঘটনায় রাকিবকে দীর্ঘদিন রংপুর ও ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল। সর্বশেষ ঘটনার আগের দিন বুধবার একটি চায়ের দোকানে মমিনের স্ত্রীর সঙ্গে রাকিবের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর পরদিনই এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি।
নিহতের বাবা আব্দুস সামাদ তার ছেলের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তার ছেলেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
