মোঃ মাসুদ রানা, সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় অবস্থিত বালিয়াটি প্রাসাদ। প্রাসাদটি স্থানীয়ভাবে বালিয়াটি জমিদার বাড়ি নামেই পরিচিত। বর্তমানে জমিদার বাড়িটি বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ কর্তৃক সংরক্ষিত ও পরিচালিত। জমিদার বাড়ির সামনেই রয়েছে একটি বড় পুকুর। জমিদার বাড়ির বিশাল প্রাঙ্গণ জুড়ে উচু দেয়াল দিয়ে ঘেরা। প্রাসাদের সম্মুখভাগে চারটি প্রবেশ পথ আছে। প্রতিটি প্রবেশ পথের চূড়ায় রয়েছে পাথরের তৈরি সিংহমূর্তি।

বালিয়াটি জমিদারদের পূর্বপুরুষ গোবিন্দ রায় সাহা ছিলেন একজন ধনাঢ্য লবণ ব্যবসায়ী। আনুমানিক দুই শতাধিক বছরের বহুকীর্তি রেখে গেছেন। মোট সাতটি স্থাপনা নিয়ে বালিয়াটি জমিদার বাড়িটি অবস্থিত। ঐতিহ্য বুকে ধরে এখনো কালের সাক্ষী হিসেবে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে। এই জমিদার বাড়ি ১৬৫৫৪ বর্গমিটার জমির উপর ছড়িয়ে রয়েছে ৭টি দক্ষিণমুখী দালান। এখানে মোট ২০০টি কক্ষ আছে। জমিদার বাড়ির একেবারে সামনে রয়েছে ৪ টি বিশাল প্রাসাদ।
এগুলো তখন ব্যবসায়িক কাজে ব্যাবহার করা হতো।এই প্রসাদের ঠিক পেছনের প্রাসাদকে বলা হয় অন্দর মহল যেখানে জমিদারবসবাস করত। জমিদার বাড়ি সবগুলো ভবন একসাথে স্থাপিত হয়নি। অন্তর্গত বিভিন্ন ভবন জমিদার পরিবারের বিভিন্ন উত্তরাধিকার কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে স্থাপিত হয়েছিল। জমিদার বাড়ির পিছনে রয়েছে বড় একটি পুকুর। ওই পুকুরের চার পাশে রয়েছে ৬ টি সাঁনবাধা ঘাটলা।
এই রাজবাড়ির প্রথম সারিতে চারটি প্রাসাদ রয়েছে। প্রাসাদের প্রতিটি প্রায় ৫০ ফিট উঁচু। চুন-সুরকি আর ইট দিয়ে তৈরি এতো সুন্দর কারুকাজে পূর্ণ যে প্রতি মুহূর্তেই বিস্মিত হয় দর্শনার্থীরা। ২ নং প্রাসাদের ভেতরেই বর্তমান জাদুঘর। এর দ্বিতীয় তলায় একটি রংমহল রয়েছে। এখানে জমিদারদের ব্যবহৃত নিদর্শনাদি দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে। বিভিন্ন বিশেষ দিনে ও বন্ধের দিনে জমিদার বাড়ি পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যায়। ছুটির দিনে প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন দেখতে আগ্রহী দেশে বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা ছুটে আসে প্রাচীন ঐতিহ্যের এ জমিদার বাড়িতে।
