পিরোজপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৭ দোকান পুড়ে ছাই

পিরোজপুর প্রতিনিধিঃ পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মিয়ারহাট বন্দরে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৭টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার (১৫ মে) মধ্যরাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, এই অগ্নিকাণ্ডে তাদের প্রায় ১০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগুনের সঠিক কারণ ও উৎপত্তিস্থল নিয়ে কিছুটা ভিন্নমত রয়েছে। তবে, অধিকাংশের ধারণা, একটি সার ও কীটনাশকের দোকানের পাশে থাকা বাঁশঝাড়ের বৈদ্যুতিক পিলার থেকে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন ভয়াবহ রূপ নিয়ে আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট। তাদের প্রায় এক ঘণ্টার সম্মিলিত চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

শনিবার (১৬ মে) ভোরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আগুনে সবকিছু হারিয়ে ব্যবসায়ীরা দিশেহারা। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় রয়েছেন তারেক, কবির, শাহাবুদ্দিন, রফিক, বশির, জাহিরুল, মাসুম, আলম, ফজলুল হক (সুতার দোকান), ফয়সাল (ক্রোকারিজ), সুজন (হার্ডওয়্যার), মিরাজ (পানের দোকান), শান্তি (সেলুন), শাকিল (মুদি দোকান), আজিজুল হক এবং ফজলু (প্লাস্টিকের দোকান)। অগ্নিকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সার ও কীটনাশকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

মিতালী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মাইদুল ইসলাম লিপু জানান, তার প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি টাকারও বেশি।

ব্যবসায়ী শিপন জানান, তার প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বারবার অগ্নিকাণ্ডে বাড়ছে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা।

এ বিষয়ে নেছারাবাদ ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম জানান, অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৭টি দোকান পুরোপুরি পুড়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে, ৩টি সার ও কীটনাশকের দোকান, ১টি চায়ের দোকান, প্লাস্টিক, দড়ি-কাচি ও ক্রোকারিজের দোকান, হার্ডওয়্যার, মুদি, সেলুন ও পানের দোকান।

প্রসঙ্গত, প্রায় এক বছর আগে মিয়ারহাট জামে মসজিদের পশ্চিম পাশে আরেকটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। ঠিক এক বছরের মাথায় এবার পুড়ল মসজিদের পূর্ব পাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো। বারবার এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মনে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *