আহসান হাবীব (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা বালিয়াদিঘি গ্রামের আমবাগানবেষ্টিত নীরব প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে দেশের ইতিহাসে অন্যতম গৌরবময় স্থাপনা—দারাসবাড়ি মাদ্রাসা, যা বাংলাদেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সুলতান শামস উদ্দীন ইউসুফ শাহের শাসনামলে ১৪৭৯ সালে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে সুলতান আলাউদ্দিন হুসাইন শাহের আমলে এটি সংস্কার ও সম্প্রসারিত হয়ে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় রূপে গড়ে ওঠে। দারাসবাড়ি নামটি এসেছে আরবি শব্দ ‘দারস’ অর্থাৎ পাঠ থেকে।
প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়টি ছিল আবাসিক, যেখানে শুধুমাত্র মুসলিম শিক্ষার্থীরাই অধ্যয়ন করতেন। এখানে হাদিস, ফিকহসহ উচ্চ ইসলামি শিক্ষা দেওয়া হতো। সমৃদ্ধ ছিল এর লাইব্রেরি—যেখানে হাতে লেখা বুখারি শরিফ সংরক্ষিত ছিল বলে ধারণা করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় ভবনটি ছিল বর্গাকার, প্রতিটি পাশে ৫৫ মিটার দীর্ঘ, এবং এতে ছিল ৩৭টি কক্ষ। এর পাশেই রয়েছে দারাসবাড়ি মসজিদ—যার ছয়টি গম্বুজ, বিশাল বারান্দা ও প্রাচীন পাথরের পিলার এখনো স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন বহন করছে।
সুলতানি আমলের অবসানের পর ধীরে ধীরে এই ঐতিহাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি হারিয়ে যায়। ধারণা করা হয়, এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে ভবনটি মাটির নিচে দেবে যায়। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩-৭৫ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর খনন করে এর ভিত্তি ও কাঠামো উদ্ধার করে।
তবে সীমান্তসংলগ্ন অবস্থান হওয়ায় আজও এটি যথাযথ সংরক্ষণ ও আধুনিকায়ন থেকে বঞ্চিত। মাত্র ৫০ গজ দূরেই ভারত সীমান্ত হওয়ায় নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণ সম্ভব নয়।
বিনোদপুর কলেজের প্রভাষক মোঃ সফিকুল ইসলাম বলেন, “এত প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ না করা সত্যিই দুঃখজনক। এখনই যথাযথ উদ্যোগ না নিলে এই ঐতিহ্য বিলুপ্ত হয়ে যাবে।”
বাংলাদেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নিদর্শন আজও নিভৃতে দাঁড়িয়ে আছে—ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে।
