চট্টগ্রাম বন্দরসহ সারাদেশে ৫ ডিসেম্বর বিক্ষোভ-সমাবেশ ও মশাল মিছিলের ডাক স্কপের

 

সাইদুল ইসলাম (মাসুম), চট্টগ্রাম :

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশী প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের প্রতিবাদে এবং লালদিয়া চর ও পানগাঁও টার্মিনালের ইজারা বাতিলের দাবিতে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) ২৬ নভেম্বর বুধবার সকাল ১০টায় বন্দর প্রবেশমুখে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচি থেকে আগামী ৫ ডিসেম্বর সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মশাল মিছিলের ঘোষণা দেয়া হয়।

স্কপের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নেতা তপন দত্ত সাংবাদিকদের জানান, বিদেশী শক্তির হাতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর স্থাপনা তুলে দেওয়ার চক্রান্তের বিরুদ্ধে শ্রমিক-কর্মচারীদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চলবে।

চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকায় স্কপের নেতাকর্মীরা চট্টগ্রাম নগরীর বড়পোল মোড়, সিম্যান্স হোস্টেল গেট ও বন্দর টোল প্লাজা, এই তিন পয়েন্টে অবস্থান নেয়। সকাল ১০ টার পর থেকে তারা সড়কে বসে কভার্ডভ্যান, ট্রাক ও ট্রেইলার চলাচল বন্ধ করে দেয়।

অবরোধে অংশ নেন, তপন দত্ত, কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, তসলিম হোসেন সেলিম, ইব্রাহীম খোকনসহ ডক ও বন্দর শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
বড়পোল এলাকায় উপস্থিত ছিলেন, সিপিবি’র সাবেক সভাপতি মো. শাহ আলম, জেলা সভাপতি অশোক সাহা, শ্রমিক ফেডারেশনের এস কে খোদা তোতন, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের ফজলুল কবির মিন্টু, বাসদের শফিউদ্দিন কবীর আবিদ প্রমুখ।

স্কপ নেতা ফজলুল কবির মিন্টু বলেন, বন্দরের টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে আমাদের আন্দোলন। সরকারকে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে। কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শাহ আলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরাও বড়পোল মোড়ের সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ প্রশাসনের অনুরোধে বেলা ১২ টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক জানান, শ্রমিকদের অবরোধে বন্দর কার্যক্রমে বড় কোনো সমস্যা হয়নি।
টিএমএস, এপিএম টার্মিনালস ও মেডলগ ইজারা নিয়ে বিতর্ক,
২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটি দিয়ে বন্দরের অধিকাংশ কনটেইনার পরিবহন হয়। পূর্বে সাইফ পাওয়ারটেক এবং পরে সাময়িকভাবে চিটাগাং ড্রাইডক লিমিটেড (সিডিএডিএল) পরিচালনার দায়িত্ব পায়। সরকার এখন দীর্ঘমেয়াদে বিদেশী অপারেটরকে দায়িত্ব দিতে চাইলে শ্রমিক সংগঠনগুলো তা ‘রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের অপচেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করছে।

অন্যদিকে, লালদিয়া টার্মিনাল দেয়া হয়েছে ডেনমার্ক ভিত্তিক এপিএম টার্মিনালস কে, আর পানগাঁও নৌ-টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে সুইজারল্যান্ডের মেডলগ এসএ-এর হাতে।

এতে ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শ্রমিক নেতারা।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা পরিষদের বিক্ষোভে পুলিশের বাধা –

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক টার্মিনাল বিদেশী প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেয়ার প্রতিবাদে বুধবার সন্ধ্যায় আগ্রাবাদে বন্দর রক্ষা পরিষদের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি বারিক বিল্ডিং মোড়ের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ বাধা দেয় এবং মিছিলকারীদের ঘিরে রাখে। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড় থেকে শুরু হওয়া মিছিল বনানী মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বন্দর রক্ষা পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হোসাইন।

সমাবেশে জনসংহতি আন্দোলনের হাসান মারুফ রুমী, নাগরিক ঐক্যের নুরুল আবছার স্বপন, মিফতা উদ্দিন শিকদার টিটো, চিরন্তন চিরু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, এনসিটি দিয়ে প্রতি কনটেইনারে বন্দরের আয় ১৬৫ ডলার, ব্যয় সর্বোচ্চ ৫০ ডলার। ফলে নীট মুনাফা ১১৫ ডলার। যদি ডিপি ওয়ার্ড আমাদের বন্দরকে ৫০ ডলার দেয় তাহলে ডিপি ওয়ার্ড বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যাবে প্রতি কন্টেইনারে ৬৫ ডলার। যদি তারা টার্মিনালটি পরিচালনা করে তাহলে ২০২৩ -২০২৪ অর্থ বছরের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে এগারশত সাত চল্লিশ কোটি পাঁচলক্ষ আটাশি হাজার দুইশত পঁযত্রিশ টাকা নিয়ে যাবে। এই বিপুল পরিমাণ ডলার বিদেশে চলে গেলে বাংলাদেশেকে ব্যাপকভাবে ডলার সংকটে পড়বে। আর ট্যারিফ বাড়ানো হলে বিদেশে ডলার চলে যাওয়ার পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *