গাজীপুরে হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে মোট ৩১টি শিশু হাসপাতালে ভর্তি

গাজীপুর প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত তিন দিনে হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে মোট ৩১টি শিশু ভর্তি হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে হাসপাতালের পরিচালক আমিনুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে হাসপাতালের ১০ তলার শিশু ওয়ার্ডে ২৭টি শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) রাত থেকে মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই শিশুদের হাসপাতালে আনা হয়। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে চারজনকে ইতিমধ্যে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে তিনজনকে সুস্থ হওয়ায় ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে এবং একজনকে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তবে আশার কথা হলো, এখন পর্যন্ত এই হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসা নিতে আসা এই শিশুরা মূলত গাজীপুর সদর, সিটি করপোরেশন এলাকা, কালীগঞ্জ, শ্রীপুর ও কালিয়াকৈর উপজেলার বাসিন্দা। শিশুদের স্বজনরা জানিয়েছেন যে, হঠাৎ তীব্র জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা দানা এবং প্রচণ্ড শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেওয়ার পর তারা সন্তানদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

বিশেষ করে কালিয়াকৈরের সফিপুর এলাকা থেকে আসা এক শিশুর মা সালেহা বেগম জানান, প্রথমে তার সন্তানের শুধু জ্বর ছিল, কিন্তু পরে সারা শরীরে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসায় কোনো উন্নতি না হওয়ায় তিনি শেষ পর্যন্ত শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে বর্তমানে তার সন্তান কিছুটা সুস্থ বোধ করছে।

গাজীপুর ও এর আশপাশের এলাকায় হঠাৎ করে শিশুদের মধ্যে হামের এই প্রকোপ দেখা দেওয়ায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ যা শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায়। শিশুদের মধ্যে তীব্র জ্বর ও শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তারা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রতিটি শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করছেন। এছাড়া শিশুদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার পাশাপাশি অন্যদের থেকে আলাদা রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যাতে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে না পড়ে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বর্তমানে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুদ রেখেছে বলে জানানো হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকেও বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে মাঠ পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

অভিভাবকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় হামের টিকা দেওয়া থাকলে এই রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। বর্তমান আক্রান্ত শিশুদের অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও নতুন করে আরও কোনো শিশু উপসর্গ নিয়ে আসে কি না, সেদিকে সার্বক্ষণিক লক্ষ্য রাখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *