নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ঈদের এক দিন পরই ঢাকার বাজারগুলোতে গরুর মাংসের দাম কমতে শুরু করেছে। এক দিনের ব্যবধানে কেজিতে ২০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত কমে গরুর মাংস আগের দামে ফিরছে। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম এখনো বাড়তি। এদিকে ঈদের ছুটির কারণে মাছের বাজারগুলোতে বিক্রেতাদের উপস্থিতি হাতেগোনা, ক্রেতার আনাগোনাও বেশ কম।
রোববার (২২ মার্চ) রাজধানীর বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
এক দিন আগেও বাজারে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সেই চড়া দাম কমে আজ বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ টাকায়। মুগদা ছোট বাজারের গোশত বিতানের মোহাম্মদ হানিফ জানান, গরুর মাংসের দাম কমেছে। আজকে গরু বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ টাকায়। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। ঈদে চাহিদা বেশি থাকে, সে জন্যই দাম বাড়ে।
তবে বাড়তি দামে মাংস কেনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মো. তারেক নামের এক ক্রেতা। তিনি বলেন, ‘ঈদের আগের দিন ৮৫০ টাকায় গরুর মাংস কিনছি। আজকে ৭৮০ টাকায় নিলাম। দুই দিন আগে তিন কেজি মাংস কিনেছিলাম ঈদের জন্য। এখনকার সঙ্গে তুলনা করলে ২১০ টাকা বেশি দিতে হয়েছে। আসলে বাজারে কোনো তদারকি নাই। কোনো উৎসব হলেই তারা ইচ্ছেমতো দাম বাড়ায়, এগুলা দেখার কেউ অতীতেও ছিল না; এখন মনে হচ্ছে নাই।
অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগিতে যে দাম চড়েছিল, সেটি এখনো সেখানেই রয়ে গেছে। বাজারে ব্রয়লারের কেজি ২৩০ টাকা রাখা হচ্ছে। তবে সোনালি মুরগির দাম কিছুটা কমতির দিকে রয়েছে। এক দিন আগেও যে মুরগির দাম রাখা হয়েছে ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা, সেটি আজ ৩৭০ থেকে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুরগি ব্যবসায়ী কোরবার জানান, বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকায় আর সোনালি ৩৮০ টাকায়। ঈদের আগে সোনালি বাড়তি দামে বিক্রি হয়েছে। বাজারে মুরগি আসছিল কম। এখন মুরগি আসতেছে, দামও কমে গেছে।
ঈদের বিকিকিনি শেষে অনেক ব্যবসায়ী বাড়ি চলে গেছেন। এর প্রভাব পড়েছে ঢাকার মাছের বাজারগুলোতে। সরেজমিনে দেখা গেছে, মাছের বাজারে হাতেগোনা কিছু দোকান খোলা। ক্রেতাও সেই অর্থে নেই বললেই চলে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি বড় রুই ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকা এবং মাঝারি আকারের রুই ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া বড় পাবদা ৪০০, তেলাপিয়া ২২০-২৫০, পাঙাশ ২১০-২২০, কই ৩০০, ছোট বোয়াল ৬৫০ ও মাঝারি চিংড়ি ৯০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে মাছ কিনতে আসা শাহজান মিয়া বলেন, ‘বাজারে মাছের দোকানই আছে চার থেকে পাঁচটা। বেশি দোকান থাকলে একটু দেখে নেওয়া যায়। রুই মাছ নিতে চাচ্ছি, কিন্তু দাম বেশি মনে হচ্ছে।’
তবে বিক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের ভাষ্য, বাজারে মাছের দাম কমই আছে। নিখিল নামের এক মাছ ব্যবসায়ী বলেন, ‘রুই মাছ বিক্রি করতেছি ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকায়। এ দামে যে সাইজের মাছ দিচ্ছি, এটা তো ঈদের আগে আরও বেশি দামে বিক্রি করছি। এরপরও কেউ কেউ কয় দাম বেশি।
