নারীদের কর্মঘন্টা কমানোর ক্ষেত্রে জামায়াতের সদিচ্ছা নারী সমাজে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি

এফ শাহজাহান:

চাকরিজীবী নারীদের কর্মঘন্টা কমানোর ক্ষেত্রে জামায়াতের সদিচ্ছা নারী সমাজে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। নারী সমাজের প্রতি এই বৈপ্লবিক ঘোষণায় সব নারীই নিজেকে সম্মানিত বোধ করছেন। স্বামীরা বাসায় গেলেই নারীরা ইনিয়ে বিনিয়ে জামায়াতের এই সদিচ্ছার কথা গর্বের সঙ্গে স্বামীদের শুনিয়ে নিজেরা গর্ববোধ করছেন।

তবে নারী সমাজের একটা বৃহৎ অংশ হোমমেকার তথা গৃহিণী। তাদের চাকরি নেই। সাধারণত পরিবারের গৃহস্থালী কাজগুলো তারাই করেন। সন্তান লালন-পালন থেকে শুরু করে ঘরের সকল কাজ তাদেরই করতে হয় । সারা জীবন তারা সংসারের জন্য বিনামূল্যে কঠোর পরিশ্রম করেন। গৃহিণীদের এই নি:স্বার্থ ত্যাগ ও পরিশ্রমের যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়ে ওঠে না সব সময়।
অথচনারীরা গড়ে পুরুষদের তুলনায় ৭.৩ গুণ বেশি সময় অবৈতনিক কাজে তথা গৃহস্থালি ও যত্নমূলক কাজে ব্যয় করেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী এ দেশের নারীরা যদি গৃহস্থালি ও সেবাযত্নের কাজের জন্য মজুরি পেতেন, তাহলে তাদের বছরে দিতে হতো ৫ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে দেখা গেছে, গৃহিণীদের বিনা মজুরির গৃহস্থালি কাজের আর্থিক মূল্য ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। আর সেবাযত্নের কাজের আর্থিক মূল্য ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।

নারী-পুরুষ সবার বিনা মজুরির কাজের আর্থিক মূল্য বছরে ৬ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন টাকা বা ৬ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা।

নারীদের এই অবৈতনিক শ্রম যদি জাতীয় আয়ে (জিডিপি) যুক্ত করা হতো, তবে চলতি মূল্যে জিডিপি অন্তত ১৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ বাড়ত।

কেয়ার ক্যালকুলেটর’ নামের সরঞ্জাম ব্যবহার করে দেখা যায় একজন মানুষ প্রতিদিন কতটা সময় অবৈতনিক কাজে ব্যয় করেন।

অবৈতনিক গৃহস্থালি ও যত্নমূলক কাজের মোট সময়ের মধ্যে নারীরা ৮৮% সময় তথা ২ হাজার ১৪৬ ঘণ্টা ব্যয় করে থাকেন। এক্ষেত্রে, অবৈতনিক গৃহস্থালি কাজের মধ্যে ৮৯% এবং যত্নমূলক কাজের ৮৬% সময় নারীরা ব্যয় করে থাকে।

বিশ্বব্যাপী মোট তিন-চতুর্থাংশের বেশি অবৈতনিক কাজ বা গৃহস্থালি কাজ এবং দুই-তৃতীয়াংশ যত্ন বা সেবামূলক কাজ নারীরা করে থাকেন।

আমাদের সমাজে গৃহিণীদের কঠোর পরিশ্রমের সেভাবে মূল্যায়ন করার সংস্কৃতিও গড়ে ওঠেনি । গৃহকর্তার সদিচ্ছা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়িতও হয় না।

গৃহিণীদের কর্মঘন্টারও কখানো হিসাব হয় না। আমরা পুরুষরা ধরেই নিয়েছি যে আমাদের মা-মেয়ে-বোন আর স্ত্রী সারা জীবন এভাবে বিনামূল্যে খেটে যাওয়ার জন্যই জন্ম নিয়েছেন।

এইসব সম্মানিত গৃহিণীদের জন্যও জামায়াতে ইসলামীর সদিচ্ছা থাকা উচিৎ। কারণ রাষ্ট্রের সদিচ্ছা ব্যতিত নাগরিকের সদিচ্ছার বাস্তবায়ন সহজে হয় না।

জামায়াত তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে চাকরিজীবী স্বামীর হোমমেকার স্ত্রী তথা গৃহিণীদের জন্য একটা যুগান্তকারী ঘোষণা দিতে পারে। তা হলো, চাকরিজীবী স্বামীর বেতনের ২০ অথবা ২৫ পার্সেন্ট কর্মহীন স্ত্রী তথা গৃহিণীর অ্যাকাউন্টে জমা দিবেন বেতন প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ।

চাকরি ব্যতিত, ব্যবসায় কিংবা অন্যান্য পেশার স্বামীগণ তাদের স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে তাদের আয়ের একটা সম্মানজনক অংশ জমা করবেন।

এতে গৃহিণীরা নিজেদের আরো সম্মানিত বোধ করবেন এবং সমাজে নারীদের মর্যাদা আরো উন্নতি হবে বলে আশা করা যায়। তখন এই গৃহিনীরাও তার নিজস্ব অ্যাকাউন্ট থেকে পরিবারের জন্য ব্যায় করতে পেরে নিজেকে নিয়ে গর্ববোধ করতে পারবেন।

যদিও অনেক ক্ষেত্রে গৃহিণীরাই আমাদের পরিবারের ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন করেন, তথাপিও এটা তাদের সম্মানিত হওয়ার ক্ষেত্রে আরো বাড়তি কিছু যোগ করবে বলে আমি মনে করি।

এই প্রস্তাবে অনেকেই দ্বিমত পোশন করতে পারেন।
অনেকেরই প্রচন্ড আপত্তিও থাকতে পারে।
থাকতে পারে তুমুল যুক্তিতর্কও।
দ্বিধাহীন চিত্তে ব্যক্ত করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *