কেন্দুয়া(নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরকারি বাসভবন ব্যবহারকে কেন্দ্র করে নতুন করে ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কেন্দুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ নাঈম উল ইসলাম চৌধূরী দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস করলেও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তার বেতন থেকে বাড়িভাড়া ভাতা (House Rent Allowance) কর্তন করা হচ্ছে না।
২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট তিনি কেন্দুয়া উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সরকারি বাসভবনে বসবাস করে আসছেন তিনি। কিন্তু জেলা প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই চেয়ারম্যানের জন্য বরাদ্দ সরকারি বাসায় এসিল্যান্ডের বসবাস এবং তার সঙ্গে মাসিক বেতন থেকে বাড়িভাড়া ভাতা না কাটা—দুটোই ব্যাপক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এসিল্যান্ডের বেতন শীট অনুযায়ী তার মোট মাসিক বেতন ৪১,৬৪০ টাকা। এর মধ্যে—বেসিক পে: ২৬,৭৬০ টাকা,বাড়িভাড়া ভাতা: ১০,৭০৪ টাকা,চিকিৎসা ভাতা: ১,৫০০ টাকা, বিশেষ সুবিধা: ২,৬৭৬ টাকা।
সরকারি বাসায় বসবাস করার কারণে নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে তার বাড়িভাড়া ভাতার ১০,৭০৪ টাকা কর্তন হওয়ার কথা। কিন্তু তা করা হচ্ছে না। বরং তিনি প্রতি মাসে ৪১,৩৪০ টাকা বেতন উত্তোলন করছেন বলে জানা গেছে।
তার বেতন থেকে যে ক’টি কর্তন করা হচ্ছে, তা হলো—এমপ্লয়ি বেনেভোলেন্ট ফান্ড: ১৫০ টাকা,
এমপ্লয়ি গ্রুপ ইন্স্যুরেন্স: ১০০ টাকা,স্ট্যাম্প: ১০ টাকা,মোট কর্তন: ২৬০ টাকা মাত্র।
এসিল্যান্ড সোনালী ব্যাংকের শাখা থেকে নিয়মিত তার নির্ধারিত ব্যাংক হিসাব থেকে বেতন উত্তোলন করে থাকেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা চেয়ারম্যানের সরকারি বাসভবনই বর্তমানে এসিল্যান্ড ব্যবহার করছেন। বিষয়টি বিধি-বহির্ভূত।
একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন,“সরকারি কোয়ার্টারে থাকলে বাড়িভাড়া ভাতা কাটা বাধ্যতামূলক। এখানে নিয়ম মানা হচ্ছে না। এতে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।”
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরাও মত দিয়েছেন,
“যে কোনো সরকারি কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় আবাসন ব্যবহার করলে তার হাউস রেন্ট ভাতা অবশ্যই কর্তনীয়। সেটা কোয়ার্টার, বিশ্রামাগার কিংবা অফিস-সংলগ্ন যেকোনো বাসভবনই হোক।”
সচেতন নাগরিকরা বলছেন,“সরকারি নিয়মের সঠিক প্রয়োগ না হলে দৃষ্টান্তহীনতা তৈরি হবে এবং প্রশাসনের প্রতি জনবিশ্বাসও ক্ষুণ্ন হবে। তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করা জরুরি।”
বিষয়টি জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাঈম–উল–ইসলাম চৌধুরী বলেন—“ইউএনও স্যারের নির্দেশে এখানে থাকছি।
এ বিষয়ে জানতে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমদাদুল হক তালুকদারের কাছে জানতে মুঠোফোনে কল করলে তিনি রিসিভ করেন নি।
সরকারি বাসভবন ব্যবহারে নিয়ম লঙ্ঘন এবং বাড়িভাড়া ভাতা কর্তন না হওয়া প্রসঙ্গে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান জানান, এসিল্যান্ড যে ওই বাসায় আছে,এর লিখিত কোন অনুমোদন নেই। ইউএনও এর মৌখিক কথার ভিত্তিতে এসিল্যান্ড ওই বাসায় বসবাস করছে ।
