কক্সবাজারের হোটেলে ‘মাদক আড্ডা’: অতিরিক্ত মদ্যপানে পর্যটকের মৃত্যু, ৫ জন আটক

কায়সার হামিদ মানিক,কক্সবাজার।
পর্যটন নগরী কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল জোনে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের আড্ডা নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধির মধ্যেই অতিরিক্ত মদ্যপানে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২২ অক্টোবর) ভোররাতে কলাতলীর একটি আবাসিক হোটেলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে হোটেল থেকে দুই নারীসহ মোট পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত রুবেল (৩৫) নওগাঁ জেলা থেকে আসা পর্যটক। কলাতলীর ‘হাইফেরিয়ন হোয়াইট প্যালেস’ নামের একটি হোটেলের ৪০৭ নম্বর কক্ষে এই ঘটনা ঘটে।
রুদ্ধদ্বার কক্ষে যা ঘটেছিলঃ
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রুবেলসহ তিন জন পর্যটক ওই কক্ষটি ভাড়া নেন। রাতে তারা কক্ষের ভেতরে বাইরে থেকে নিয়ে আসা আরও দুই নারীকে যুক্ত করে মদ্যপানে আসক্ত হন। একপর্যায়ে রুবেল অতিরিক্ত মদ্যপান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত্যুর খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক অভিযানে নামে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে ফ্ল্যাটের মালিক আব্দুল লতিফ (৪২), মো. মামুন (৪২), মোতালেব (৩৬), মর্জিনা আক্তার (১৮) ও সাবিনা আক্তার (১৭)-কে আটক করা হয়।
হোটেল কর্তৃপক্ষের রহস্যময় নীরবতাঃ
ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে হোটেলের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। হোটেলের জেনারেল ম্যানেজার নাজমুল হক কোনো মন্তব্য না করে বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যান। কক্ষের ভেতরে কীভাবে মাদকদ্রব্য প্রবেশ করল এবং কেন মাদক সেবনের মতো অবৈধ কার্যকলাপ চলল—এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দ্রুত হোটেল ছেড়ে চলে যান, যা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলার ইঙ্গিত দেয়।
মাদক আড্ডা ও যোগসাজশের অভিযোগ
পর্যটন এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ এই বিষয়ে মন্তব্য করেন, “কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেলে মাদক ও ইয়াবার আড্ডা গড়ে উঠেছে। আমরা নিয়মিত অভিযান চালালেও এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে অনেক সময় হোটেল মালিকদের যোগসাজশ পাওয়া যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সচেতন মহল পর্যটকদের নিরাপত্তা ও হোটেলগুলোর কার্যক্রমে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর দাবি তুলেছে। তারা বলেন, এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত কার্যকলাপ কক্সবাজারের আন্তর্জাতিক পর্যটন ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। প্রশাসনের পাশাপাশি হোটেল ব্যবসায়ীদেরও তাদের ব্যবসার পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় আরও দায়িত্বশীল ও কঠোর হতে হবে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস খান নিশ্চিত করেছেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *