আফ্রিকায় বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গৌরব বয়ে আনলেন ঢাকার কৃতি সন্তান সোহাগ মহাজন

মুস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক:

আফ্রিকার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আয়োজিত আফ্রিকান ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট সামিট-এ বাংলাদেশ অর্জন করলো এক অনন্য গৌরব। আটলান্টিক মহাসাগরের পাড়ে অবস্থিত লাইবেরিয়ার রাজধানী মনরোভাতে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের হয়ে অংশগ্রহণ করেন ঢাকার সন্তান, যুব উন্নয়ন সংগঠক ও সমাজকর্মী মোহাম্মদ আব্দুর রহমান সোহাগ মহাজন। তাঁর দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে যুব উন্নয়ন, শিক্ষা, ক্ষমতায়ন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যুব সমাজের ইতিবাচক ভূমিকা সৃষ্টির জন্য করা কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে প্রদান করা হয়েছে সম্মানজনক “আফ্রিকান ইস্ট-ওয়েস্ট অ্যাওয়ার্ড”।

পুরস্কার প্রদানের অনুষ্ঠান

২০২৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর লাইবেরিয়ার রাজধানী মনরোভার বিখ্যাত পেন্সেলভিয়া হল রুমে অনুষ্ঠিত এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সরকারী কর্মকর্তা, কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক যুব সংগঠনের প্রতিনিধি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার প্রদান করেন লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত এবং দেশটির বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা লিন্ডা কারিমি ক্যারেভি। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন মনরোভার মেয়র ও গ্লোবাল ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের (GYDC) আফ্রিকান কন্টিনেন্টাল কমিটির প্রেসিডেন্ট এগ্নেস ফরচুন কেনন।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

মোহাম্মদ আব্দুর রহমান সোহাগ মহাজন দীর্ঘ ২২ বছর ধরে বাংলাদেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুব সমাজের উন্নয়ন, নেতৃত্ব সৃষ্টি, শিক্ষা সহায়তা এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে কাজ করে আসছেন। তিনি বর্তমানে ইয়ুথ কাউন্সিল অব বাংলাদেশ-এর প্রধান নির্বাহী এবং ঢাকা ইয়ুথ ক্লাবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি গ্লোবাল ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল (GYDC)-এর থ্রি ই মিশন ২০৩০ (Environment, Education, Empowerment) সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে যুব সমাজকে আন্তর্জাতিকভাবে এক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করতে কাজ করছেন। এই অবদানের জন্যই তাঁকে আফ্রিকার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ সম্মেলনে সর্বোচ্চ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।

বহুজাতিক উপস্থিতি

দুই দিনব্যাপী এই আফ্রিকান ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট সামিটে অংশগ্রহণ করেন নাইজেরিয়া, ঘানা, সিয়েরা লিওন, আইভরি কোস্ট, দক্ষিণ আফ্রিকা, মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শতাধিক যুব প্রতিনিধি। তাঁদের উপস্থিতিতে এক উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠান এবং পুরস্কার প্রদান।

বাংলাদেশের গৌরব

বাংলাদেশের যুব সমাজকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উপস্থাপন করেছেন সোহাগ মহাজন। এই অর্জন শুধু একজন ব্যক্তির নয়, বরং পুরো জাতির গর্বের বিষয়। আফ্রিকায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে এ ধরনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের তরুণরা বিশ্বে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রাখে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে ইতোমধ্যেই এ পুরস্কারকে বাংলাদেশি তরুণদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই সাফল্য আরো বেশি যুব সংগঠন ও তরুণদের আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *