নব্বইয়ের গণঅভ্যূত্থানের পর জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ না করা ছিলো ইতিহাসের প্রথম ভুল। ইতিহাসের দ্বিতীয় ভুল হচ্ছে, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যূত্থানের পর এখনো জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ না করা।নব্বইয়ের গণঅভ্যূত্থানের আগে ও পরে দেশের সব রাজনৈতিক দল এক কাতারে থাকলেও স্বৈরতান্ত্রিক জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ না করায় দেশের জনগণকে তার খেসারত দিতে হয়েছে আওয়ামী জাহিলিয়াতের দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে।গত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফ্যা.সিস্ট আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী হয়ে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসা জাতীয় পার্টিকে জুলাই গণঅভ্যূত্থানের পর এখনো নিষিদ্ধ না করলে, জাতিকে কমপক্ষে আরো ২০ বছর ভারতের গোলামী করতে হবে ।স্বৈরতান্ত্রিক জাতীয় পার্টির সমর্থন পেয়েই ফ্যা.সিবাদী শাসনব্যবস্থা কায়েম ও নির্বিঘ্নে কঠোরভাবে চালিয়ে যেতে পেরেছিল আওয়ামী লীগ।৩৫ বছর পর আবারো সেই পুরনো চক্রই গ্রাস করতে যাচ্ছে বাংলাদেশকে। এতো রক্ত, এতো লাশ ! তবু পিরিস্থিতি পাল্টায়নি একটুও । নব্বইয়ে রক্ত দিয়েছিল নূর হোসেনরা। ৩৫ বছর পর এখন রক্ত দিচ্ছে নুরুরা। পার্থক্য শুধু এটুকুই ,আগেকার নূর ; এখনকার নুরু।নব্বইয়ের শহীদ নূর হোসেনদের নাম ভুলে গেছেন জাতীয় গাদ্দাররা। চব্বিশের শহীদ আবু সাঈদ-মুগ্ধদেরও ভুলে যাচ্ছেন তারা। আগে নূর হোসেনদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানী করে যারা স্বৈরাচার এরশাদ ও জাতীয় পার্টিকে পূণর্বাসিত করেছিলেন, এখনো সেই গাদ্দাররাই টিকিয়ে রাখছেন জাতীয় পার্টিকে।নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ভুলে গিয়ে জাতীয় পার্টিকে দুধ-কলা দিয়ে পুষে রাখার কারণে আওয়ামী ফ্যা.সিবাদের জন্ম হয়েছিল। ঠিক তেমনি, চব্বিশের চেতনা ভুলে গিয়ে জাতীয় পার্টিকে এবারও টিকিয়ে রাখলে উগ্র ফ্যা.সিবাদ কায়েমের পথ খোলাসা হয়ে যাবে।১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ বিএনপির নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারের কাছ থেকে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করে দীর্ঘ ৯ বছর দেশে স্বৈরশাসন চালিয়েছিলেন। সেই স্বৈরশাসনকে হঠাতে শত মায়ের বুক খালি হয়েছে। তবুও অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী, ৯ বছরের স্বৈরাচারের জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ না করে দেশ ও জাতির সঙ্গে চরম বেঈমানী করেছেন নব্বইয়ের অভ্যূত্থান পরবর্তী শাসকরা।চব্বিশের মতো নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সূচনায় ছাত্রনেতৃত্বই ছিল প্রধান।আন্দোলনে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও সবার একটাই লক্ষ্য ছিল স্বৈরাচারের পতন। এ আন্দোলনে সে সময়ে শহীদ হ সেলিম, জাফর, জয়নাল, কাঞ্চন, দীপালি, দেলোয়ার, তাজুল, জিহাদ, ময়েজউদ্দিন, বসুনিয়া, ডা. মিলন, নূর হোসেনসহ অনেকে।শহীদ নূর হোসেন সহ নব্বইয়ের গণঅভ্যূত্থানের শহীদদের মূল চেতনাই ছিল স্বৈরতন্ত্রের নিপাত। কিন্তু আমাদের রাজনীতিবিদরা শয়নে-স্বপনে এখনো স্বৈরতান্ত্রিক ধ্যানধারণা বয়ে বেড়াচ্ছেন। বার বার রাজনীতিবিদদের বয়ে বেড়ানো সেই স্বৈরতান্ত্রিক ধ্যানধারণার খেসারত দিতে হচ্ছে দেশের হতভাগা আমজনতাকে।নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র ফিরে পাওয়া, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, বাক-ব্যক্তি ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে সুযোগ তৈরি হয়েছিলো,জাতীয় পার্টিকে বহাল রেখে তা হাত ছাড়া করেছেন আমাদের অভিশপ্ত গাদ্দার রাজনীতিবিদরা।শুধু জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ না করার কারণেই দেশের স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্বকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলো আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ না করা সেই ভুলের খেসারত দিতে গিয়ে চব্বিশের রক্তঝরা জুলাই বিপ্লবে হাজার হাজার মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে।আজ থেকে ৫ মাস আগে,গত ৬ এপ্রিল এক সাক্ষাৎকারে দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছিলেন, নির্বাচন করতে গেলে তো দলের সাংগঠনিক শক্তির প্রয়োজন। তাই আমরা আগামীতে দেশজুড়ে কর্মসূচি দেব। জাতীয় পার্টি নতুনভাবে রাজনীতি শুরু করবে।’একই সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেন, আমরা সব দলের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে কাজ করেছি। আমরা আশাবাদী, সঠিক নির্বাচন হলে আমরা ভালো করতে পারব।’জিএম কাদেরের সেই বক্তব্যের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে এখন। দিন দিন এদের আসল চেহারা বেরিয়ে আসতে থাকবে। কারণ, এদের পেছনে মূল শক্তি জোগাচ্ছে ভারত আর আওয়ামী লীগ।এবার জাতীয় পার্টি যদি নিষিদ্ধ না হয়ে যদি নির্বাচনে আসার সুযোগ পায়, তাহলে আওয়ামী ফ্যা.সিবাদকে আবার ফিরিয়ে আনার সবচেয়ে বড় রাস্তা তৈরি করে দিবে নব্বইয়ের গণধিকৃত এই জাতীয় পার্টি।
পরবর্তী খবর
Add A Comment