নিখোঁজ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। শুক্রবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে মেঘনা নদীর বলাকির চরে থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।পরে জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে আনাহয়। কলাগাছিয়া নৌ-পুলিশের ইনচার্জ সালেহ আহমেদ পাঠান বলেন, আমরা থানার সাথে যোগাযোগ করেছি। মরদেহের ছবি পাঠানো হলে সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের পরিবার দেখে ধারণা করছে এটি তারই মরদেহ। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবার মরদেহ শনাক্ত করেনি বিকাল হতে পারে কিছু বিষয়ের তথ্য প্রয়জন।এদিকে বিভুরঞ্জন সরকারের খোঁজ পাচ্ছিল না তার পরিবার গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) সকাল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তিনি রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীর বাসা থেকে অফিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। এরপর থেকে আর বাড়ি ফেরেননি। ওই রাতেই তার ছেলে ঋত সরকার রমনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।১৯৫৪ সালে জন্মগ্রহণকারী বিভুরঞ্জন সরকার ষাটের দশকের শেষ দিকে স্কুলশিক্ষার্থী থাকাকালে দৈনিক আজাদে মফস্বল সংবাদদাতা হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও সাপ্তাহিকে কাজ করেছেন। দৈনিক মাতৃভূমি, সাপ্তাহিক চলতিপত্রের সম্পাদক এবং সাপ্তাহিক মৃদুভাষণের নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন তিনি। আশির দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় সাপ্তাহিক যায়যায়দিনে ‘তারিখ ইব্রাহিম’ ছদ্মনামে লেখা তার রাজনৈতিক নিবন্ধ বিশেষভাবে পাঠকপ্রিয় হয়েছিল।এদিকে (মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি )জানিয়েছেন, বিভুরঞ্জনের মরদেহ টি ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে। মরদেহের বেশ কিছুটা পরিবর্তন ঘটেছে। ফলে পুরোপুরি কনফার্ম হওয়া যাচ্ছে না। তবে বিভুরঞ্জনের পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করতে চেষ্ঠা করছে। বিভুরঞ্জন সরকারের ছোট ভাই চিররঞ্জন সরকার জানান। পুলিশ যে ছবি দেখিয়েছে, আমি নিশ্চিত ছবিটি দাদার। এখন কিছু ফরমালিটিজের জন্য অপেক্ষা। এর আগে ২১ আগস্ট সকাল সোয়া ৯টায় বিভুরঞ্জন সরকার একটি লেখা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে মেইল করেন। তিনি লেখেন, “জীবনের শেষ লেখা হিসেবে এটা ছাপতে পারেন।” পরিবারের সদস্যরা জানান, ওইদিন ১০টার দিকে অফিসে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বেরিয়ে তিনি আর ফেরেননি। সিনিয়র সাংবাদিক, কলাম লেখক বিভুরঞ্জন সরকার স্কুলছাত্র থাকা অবস্থায় সাংবাদিকতার পেশায় জড়ান। একইসঙ্গে তিনি বাম রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হন। পঞ্চগড়ে থাকতে তিনি দৈনিক আজাদের প্রতিনিধি ছিলেন। এরপর ঢাকায় সাপ্তাহিক একতা, দৈনিক রূপালীতে কাজ করেন। নিজে সম্পাদনা করেছেন সাপ্তাহিক ‘চলতিপত্র’। একসময় ‘মৃদুভাষণ’ নামে সাপ্তাহিকের নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন। ‘দৈনিক মাতৃভূমি’র সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন।দেশের প্রায় সব দৈনিক এবং অনলাইনে নিয়মিত কলাম লিখতেন তিনি। আশির দশকজুড়ে তিনি সাপ্তাহিক যায়যায়দিনের সহকারী সম্পাদক পদে থাকাকালে ‘তারিখ ইব্রাহিম’ ছদ্মনামে লিখে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। সর্বশেষ তিনি দৈনিক আজকের পত্রিকার জ্যেষ্ঠ সহকারী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিভুরঞ্জন সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তবে পেশার কারণে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না।
পরবর্তী খবর
Add A Comment