ইউক্রেনের ৩ হাজার টন সূর্যমুখী তেল রোহিঙ্গাদের জন্য হস্তান্তর করেছে
কক্সবাজারে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকার, ইউক্রেন ও সুইডেনের দূতাবাস এবং জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) যৌথভাবে রোহিঙ্গাদের জন্য ৩ হাজার মেট্রিক টন সূর্যমুখী তেল হস্তান্তর করেছে। সহায়তাটি এসেছে ইউক্রেন সরকারের মানবিক খাদ্য উদ্যোগ ‘গ্রেইন ফ্রম ইউক্রেন’ কর্মসূচির আওতায়।
এই তেল রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেতৃত্বে ডব্লিউএফপি ও অন্যান্য মানবিক সংস্থার খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে।
‘গ্রেইন ফ্রম ইউক্রেন’ হলো ইউক্রেন সরকারের ২০২২ সালে চালু করা একটি মানবিক খাদ্য উদ্যোগ। এর লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে ইউক্রেনের খাদ্যপণ্য সংকটাপন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়া। রোহিঙ্গাদের জন্য দেওয়া সূর্যমুখী তেল উৎপাদিত হয়েছে ইউক্রেনে, আর এর ক্রয় ও পরিবহন খরচ—মোট ৭০ লাখ মার্কিন ডলার—ভার নিয়েছে সুইডেন সরকার।
অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোস্তফিজুর রহমান বলেন, সুইডেন ও ইউক্রেনের এই গুরুত্বপূর্ণ সহায়তার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। এটি রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা জোরদার করবে এবং মানবতা, সহমর্মিতা ও বৈশ্বিক দায়িত্ববোধের প্রতিফলন ঘটাবে।
উখিয়ার মধুরছড়া লজিস্টিক হাবে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব মোস্তফিজুর রহমান, রোহিঙ্গা ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া উইংয়ের পরিচালক এ.কে.এম. মহিউদ্দিন কায়েস, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস, ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ড. ওলেক্সান্দ্র পলিশচুক, ডব্লিউএফপি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর সিমোন পার্চমেন্ট এবং ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে শারলে।
রোহিঙ্গা ত্রাণ কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, এই উদ্যোগ মানবিকতার এক যৌথ বিশ্বাসকে তুলে ধরে—যা ইউক্রেন, সুইডেন, ফ্রান্স, ডব্লিউএফপি এবং বাংলাদেশ সরকারকে একত্র করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহিউদ্দিন কায়েস বলেন, আজকের সহায়তা শুধু মানবিক উদ্যোগ নয়, এটি রোহিঙ্গাদের প্রতি বন্ধুত্ব ও সংহতির প্রকাশ।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা ডব্লিউএফপির খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এখানে রোহিঙ্গারা ই-ভাউচার ব্যবস্থার মাধ্যমে সূর্যমুখী তেলসহ অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করেন। প্রতি ব্যক্তি মাসে ১২ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ খাদ্য কিনতে পারেন। ১৯টি ই-ভাউচার আউটলেটে তারা চাল, ডালসহ মৌলিক খাদ্য ছাড়াও স্থানীয় বাজার থেকে সংগ্রহ করা তাজা শাকসবজি, মাছ ও মুরগি নিতে পারেন। এসব পণ্য সরবরাহে স্থানীয় ক্ষুদ্র কৃষকরাও যুক্ত রয়েছেন।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ড. পলিশচুক বলেন, সুইডেন ও অন্যান্য অংশীদারদের সহায়তার জন্য ধন্যবাদ। রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের নেতৃত্ব প্রশংসনীয়। ডব্লিউএফপি ও মানবিক সংস্থাগুলোর কাজ সত্যিই উদাহরণযোগ্য।”
সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিশ্বকে সচেতন রাখতে হবে। এই উদ্যোগ দেখায় যে সংহতি শুধু ধারণা নয়—এটি বাস্তব পদক্ষেপ।
ডব্লিউএফপির সিমোন পার্চমেন্ট বলেন, ইউক্রেন ও সুইডেনের এই অঙ্গীকার বৈশ্বিক সংহতির শক্তিশালী উদাহরণ। আশা করি অন্যরাও এগিয়ে আসবে।
রোহিঙ্গা সংকট এখন নবম বছরে। তহবিল সংকট তীব্র হয়ে উঠছে। ২০২৬ সালে প্রায় ১২ লাখ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে ডব্লিউএফপির ১৭২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঘাটতি রয়েছে। নতুন অর্থায়ন না হলে আগামী বছরের এপ্রিল থেকে খাদ্য সহায়তায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটবে।

